সম্ভাবনাময় বস্ত্র ও পোশাক শিল্প: আজিজা রহমান সিলভিয়া

উত্সর্গঃ সৃস্টির সেবক, রেডিও আবিস্কারক স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু – যার স্পর্শে পৃথিবী ধন্য!

 

আজিজা রহমান সিলভিয়া। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা টেক্সটাইল প্রযুক্তিবিদ। বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্‌ কর্পোরেশনের উপ মহাব্যবস্থাপক।

১৯৮১-৮২ শিক্ষাবর্ষে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কলেজ অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি হতে টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে ৪ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্সে শিক্ষাজীবন শুরু করি। অসুস্থ রাজনীতির পরিণতি,সেশন জটের জটিলতায় আমাদের দীর্ঘ ছাত্রজীবন। সহপাঠী হিসেবে আমরা অনেকটা পথ হেটেছি একসাথে। টেক্সটাইল কলেজে একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ার স্বপ্নে আমরা ছিলাম সহযোদ্ধা।

সত্যের রূপ একটাই। সত্য অনিন্দ্য সুন্দর। আর স্বপ্নের শক্তি অসীম। আর তাই আমরা আজও এগিয়ে চলেছি-প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে, সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়।

এবার দেশে ফিরে TexTek Solutionsবিজ্ঞানী.com-এর পক্ষ থেকে মুখোমুখি হই আজিজা রহমানের। শুনুন তাহলে আমাদের আলাপচারিতার অংশবিশেষঃ

 

শফিউল ইসলাম : শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। পদোন্নতি ও নতুন দায়িত্ব কেমন লাগছে?

আজিজা রহমান : অবশ্যই আনন্দের, যে কোন প্রাপ্তীই আনন্দদায়ক। কেবল মাত্র দূর্নাম ছাড়া। তাই নতুন পদবী ও দায়িত্ব সবকিছুই খুব ভালো লাগছে।

 

.. : বগুড়ার মেয়ে তুমি। তোমার শৈশব কেমন কেটেছে?

আ.র. : বগুড়ার মেয়ে হলেও শৈশব, কৈশর,যৌবন এমনকি বর্তমান বসবাস ঢাকাতে। তাই আর দশ-পাঁচটা মেয়ের মত আমার শৈশব ছিল আনন্দদায়ক ও স্মৃতি রোমাঞ্চকর।

 

শ. ই. :     টেক্সটাইল প্রযুক্তির পেশা কেন বেছে নিলে?

.র. :     ছোটবেলা থেকে আঁকাআঁকিতে বেশ হাত ছিল। তাই ভেবেছিলাম আর্কিটেকচার-এ পড়ব।কিন্তু সেখানে চান্স পেলাম না। আর ডাক্তারিতে চান্স পেলাম তাও ঢাকার বাইরে। বাবা মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। তাই অবশেষে বাবার ইচ্ছায় এই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হলাম। প্রথম ও একমাত্র মহিলা হিসেবে  টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভালোভাবেই পড়াশোনা করলাম এবং এই লাইনে ভালোভাবে চাকুরী করে এতদূর পথযাত্রা। সবকিছু মিলিয়ে মনে হয় বাবা আমাকে সঠিক পথেই পরিচালিত করেছিলেন।

 

শ. ই. :        বাংলাদেশের প্রায় ৮০%  রপ্তানী আয় আসে টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প থেকে। এক্ষেত্রে আমরা কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি?

আ. র. :      বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানী আয় আসেই পোশাক শিল্প হতে। আর এই শিল্প যেমন দেশের বাইরে তেমনি দেশের ভিতরে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যেমন প্রতিযোগিতার গুণগত মান, বিভিন্ন ডিজাইন, বিভিন্ন টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল ব্যাবহার সর্বোপরি কোটাভিত্তিক ব্যাবসা যা বর্তমানে বন্ধ হলেও বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় ভালো আছে। আর দেশের অভ্যন্তরে যেমন- ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, যা কিনা আমাদের দেশে ঘাটতি রয়েছে। নতুবা আমরা এক্ষেত্রে আয় করতে পারতাম।

 

শ. ই. :        এসব সমস্যাকে কিভাবে সম্ভাবনায় রূপ দিতে পারি?

আ. র. :      আমার মতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ-এর মত সমস্যার মোকাবেলা করতে হলে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে হবে। এতে যেমন দরকার নতুন নতুন স্পিনিং মিলস্‌ তৈরি করা এবং পরবর্তী চেইন অফ প্রসেস অনুযায়ী মিল/ফ্যাক্টরী তৈরি করে ফিনিক্স প্রোডাক্ট গার্মেন্ট পর্যন্ত ফ্যাক্টরী গরে তোলা। এর জন্য প্রয়োজন প্রথমত পরিকল্পনা। প্রতি বছর গড়ে কত গজ কাপড়(বুনন), কত গজ নীট কাপড় লাগবে, এর জন্য কত গজ সুতার প্রয়োজন সে অনুযায়ী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ-এর মিল/ফ্যাক্টরী গড়ে তুলতে হবে। নতুবা র-ম্যাটেরিয়ালের ঘাটতি থেকে যাবে যা বিদেশ হতে আনতে হবে। এছাড়া আমাদের এই শিল্পকে রাজনীতির আওতামুক্ত রাখতে হবে।

                   আমি মনে করি যদি কোন ক্ষেত্রে গ্রুপ বা জোন ওয়াইজ টেক্সটাইল সেক্টর গড়ে তোলা যায় যেমন নীটিং, উইভিং, ডাইং ইত্যাদি ফ্যাক্টরীগুলো নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক চেইন-ওয়াইজ গড়ে তোলা হয় তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রোডাকশন কস্ট আরো নিম্নে আনা সম্ভব হবে। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে আরো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই শিল্পের আরো উন্নতি করা সম্ভব।

 

শ. ই. :        বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে উন্নতির জন্য কোন পরামর্শ… …

আ. র. :      অবশ্যই টেক্সটাইল সেক্টর একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। আর আমরা অবশ্যই আশাবাদী এই সেক্টর নিয়ে যা কিনা আগামী ১০ বছর পরে আরো বৃহত্তর আকারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে-তা যেমন গুণগত দিক দিয়ে হোক আর সংখ্যাগত দিক দিয়ে হোক।এই শিল্প শুধু রপ্তানীর ক্ষেত্রেই নয় নয়, দেশের অভ্যন্তরেও এর চাহিদা বিরাট যা এখনো আমরা পূরণ করতে পারিনি। আশা করি আগামী দশ বছরে তা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে পারবে এবং এর সাথে বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানী করতে পারবে। ভবিষ্যতে নতুন নতুন টেক্সটাইলের বিভিন্ন ধরনের মিল/ফ্যাক্টরী গড়ে উঠবে এই প্রত্যাশাই করছি।

Kritoggota: Mahfuz many thanks for typing this article.

Picture: Aziza Rahaman Sylvia with the distinguished textile engineers at the ITET Convention in Dhaka 060302

aziza_1_itet_20060302

 

ফেসবুক কমেন্ট


15 Comments

  1. সত্যের রূপ একটাই। সত্য অনিন্দ্য সুন্দর। আর স্বপ্নের শক্তি অসীম। আর তাই আমরা আজও এগিয়ে চলেছি-প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে, সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়।
    Thank you very much.

  2. Thanks Mr. Shafiul Islam for his writings.

    Aziza madam is a crown woman in this sector who has taken such type of decision to be a textile engineer in that time. Now lots of women are educated in this field.

    Anyway please write about

    Textile and garment sectors contribute more than 80% of our export but there is no research institute. It’s a shame for us. Lots of foreigners are working in this sector. But we the Bangladeshi are not capable for this? What do you think?

    Thanks,

    Khokon

  3. first of all I think I should be sorry, If I make any mistake in my comment. My confusion is all about the industries related to BTMC. Because the private textile industries are making profit with little investment and expanding dramatically, but the industries under BTMC have not seen profit for many years and are almost closed. Why this situation come and can it be overcome?

  4. My name is shamim , I am a student of Pabna Textile Engineering College , university of Rajshahi. Now i am in B.Sc. in Textile Engineering final year student., i have a some comments____________ইদািনং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সুতার দাম আগের তুলনাই অনেক বেড়ে গেছে । world market a তুলার দাম বাড়ার কারনে, এছাড়াও আর অনেক কারনে। তাই ৈতির পোশাক এবং দেশও বস্তের দাম ও বহুল অংশে বেড়ে গেছে । আমরা শুলতে পাচ্ছি যে সুতার ৩০ count এর নিচে অনেক সুতা বেশি দামে ,পাশের দেশ India থেকে আমদানি করা হচ্ছে । আমরা জানি India তে উন্নত ম্যাশিন দারা Secondary তুলা কে recycling করে কম কউন্ত এর সুতা কম cost এ ৈতির করছে । এবং world market এ তাদের সুতার প্রসার ঘটছে ।আমরা কি পারি না আমাদের দেশে উন্নত মানের ম্যাশিন আমদেনি করা নতুন নতুন spinning mill established করে Secondary তুলা কে recycling করে কম কউন্ত এর সুতা ৈতির করতে ? এতে দেশে সুতার সরবরাহ বারবে। বেশি দামে সুতা আমদানি ও করতে হবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*