Home / বিজ্ঞান বিষয়ক খবর / অদৃশ্য শক্তির রহস্য উন্মোচনে সুপার-কম্পিউটার

অদৃশ্য শক্তির রহস্য উন্মোচনে সুপার-কম্পিউটার

{mosimage}যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটেশনাল কসমোলজি" (আইসিসি) কম্পিউটারকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব গবেষণায় পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে মহাবিশ্বের অদৃশ্য বস্তু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ১১ দিন ধরে তাদের সুপার-কম্পিউটারে একটি সিম্যুলেশন পরিচালনা করেছেন। এই সুপার-কম্পিউটারটির নাম কসমোলজি মেশিন বা কসমা। অবশেষে ২০০৮ সালের ১১ই জানুয়ারিতে রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্যটি এরকম:

মহা বিস্ফোরণ ঘটার কয়েক শত হাজার বছর পর বিকিরিত বিশেষ শব্দ তরঙ্গের কারণে বর্তমানে মহাবিশ্বের উপাদান পদার্থসমূহের মধ্যে মৃদু হল্লোল লক্ষ্য করা গেছে। মহা বিস্ফোরণের পর যে ১৩ বিলিয়ন বছর পার হয়েছে ততদিনে এই শব্দ তরঙ্গগুলোর অনেকাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু সিম্যুলশনে দেখা গেছে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে তরঙ্গগুলো টিকে থাকে এবং সে কারণেই কিছু তরঙ্গ টিকে রয়েছে। সিম্যুলেশনের মধ্যে মহাবিশ্বের অদৃশ্য শক্তির পরিমাণ বাড়িয়ে কমিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এর সাথে সাথে হল্লোলের দৈর্ঘ্যও পরিবর্তিত হয়। এ কারণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এই হল্লোল হতে পারে অদৃশ্য শক্তি এবং অদৃশ্য বস্তু পরিমাপের একটি আদর্শ মাপকাঠি।

আইসিসি'র পরিচালক অধ্যাপক কার্লোস ফ্রেংক তো বলেই বসেছেন, "হল্লোলগুলো হচ্ছে সোনালী আদর্শ। পরিমাপকৃত হল্লোলের সাথে এই সোনালী আদর্শের তুলনা করার মাধ্যমে জানা যাবে মহাবিশ্ব কিভাবে প্রসারিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বের করা যাবে অদৃশ্য শক্তির ধমসমূহ।"

এদিকে ইতালির বোলগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা "স্পেস" (স্পেকট্রোস্কোপিক অল-স্কাই কসমিক এক্সপ্লোরার) নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক মহাশূন্য অভিযানের প্রস্তাব করেছেন এসা'র (ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি) কাছে। ২০১৭ সালে এর যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। ডারহামের এই আবিষ্কার স্পেস অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে। উল্লেখ্য স্পেস অভিযানের লক্ষ্যই হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি ও বস্তুর ধর্ম অনুসন্ধান করে মহাবিশ্বের পরিণতি বিষয়ে তথ্য বের করে আনা।
ব্যবহৃত পরিভাষা

ripple – হিল্লোল
dark matter – অদৃশ্য বস্তু
dark energy – অদৃশ্য শক্তি
computational cosmology – কম্পিউটারকেন্দ্রিক বিশ্বতত্ত্ব
standard ruler – আদর্শ মাপকাঠি
gold standard – সোনালী আদর্শ
cosmic vision – মহাজাগতিক দৃষ্টি

About মুহাম্মদ

Check Also

চাঁদে অভিযান।

বায়ুস্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থ্যা প্রায় 250 মাইল উচ্চতায় পৌছানোর পর চঁন্দ্রগামী রকেটকে প্রতি সেকেন্ডে 36 …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. দুঃখিত, আমি প্রবন্ধটিতে হিল্লোল না লিখে হল্লোল লিখেছি। আসলে হিল্লোল হলে। ব্যবহৃত পরিভাষা ঠিক আছে। কেউ দয়া করে বিভ্রান্ত হবেন না।

  2. I think that its a so much fine news. so much thanks for khan mohammad bin asad. may allah bless you.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।