Home / কলাম / বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা (বাভানিস)

বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা (বাভানিস)

বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা (বাভানিস)       

 

     বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা— দুই বাংলা মিলে গঠিত হবে৤ বাংলাদেশের বাংলা একাডেমীর নেতৃত্বে– সে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের(কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় সহ) প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি "সভা" গঠিত হবে৤ সেখানে সংবাদপত্রসমূহের প্রতিনিধি, সাময়িকপত্রসমূহের প্রতিনিধি, প্রকাশনাশিল্পের প্রতিনিধি, আইটি শিল্পজগতের প্রতিনিধি, জাতীয়-গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও থাকবেন৤ এঁরা হবেন বাংলাদেশ বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা— নেতৃত্বে বাংলা একাডেমী, ঢাকা৤ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির নেতৃত্বে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় সহ) এবং আইআইটি, আইআইএম–এর প্রতিনিধিরা এবং সংবাদপত্রসমূহের প্রতিনিধি, সাময়িকপত্রসমূহের প্রতিনিধি, প্রকাশনাশিল্পের প্রতিনিধি, আইটি শিল্পজগতের প্রতিনিধি, জাতীয়-গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে গঠিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা৤ এই দুই সভা মিলে তৈরি হবে মূল বাংলাভাষা নিয়ন্ত্রণ-সভা (বাভানিস)৤ ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড,  আন্দামান, দণ্ডকারণ্য বা অন্য অঞ্চলের বাংলাভাষী প্রতিনিধিরাও এ সভায় থাকবেন৤ এঁরা বাংলাভাষা সম্পর্কিত যাবতীয় ব্যাপার নিয়ন্ত্রণ করবেন৤ এঁদের অধিকারে থাকবে– (১)বাংলাভাষার প্রতিটি শব্দের নিখুঁত বানান নির্ধারণ, ও বানান-অভিধান রচনা করা, (২) বাংলা লিপির সংস্কার করা, (৩)বাংলা লিপির গঠন নির্ধারণ করা, (৪)বাংলা লেখার পদ্ধতি-প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা, (৫)বাংলা কম্পিউটার সফ্​ট্ওয়্যার ও বাংলা ইউনিকোড ওপেন টাইপ ইউ.আই ফন্ট তৈরি করা, (৬)বাংলা কম্পিউটার কিবোর্ড নির্ধারণ করা, (৭)বাংলা বানান শোধন সফ্​ট্ওয়্যার(স্পেলচেকার) নির্মাণ করা, (৮)বাংলা যুক্তবর্ণের গঠন ও লেখার পদ্ধতি নির্ধারণ করা, (৯)বাংলা এন্‌জিনিয়ারিং(Engineering) বর্ণমালা ও ভাষার কারিগরি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা, এবং পরিভাষা নির্মাণ করা, (১০)বাংলাভাষার উদ্ভব-ইতিহাস উদ্ধার করা, প্রত্নেষণা তথা আবীত গবেষণা, বাংলাভাষার প্রসার, প্রচার, বিকাশ, উন্নয়ন ও গবেষণা ইত্যাদি কাজগুলি পরিচালনা করা৤  

       এজন্য প্রতিটি বিভাগের উপসভা থাকবে৤ দরকার হলে এসব উপসভার অনুসভাও গঠন করতে হবে৤ ঢাকায় এবং কোলকাতায় বৈঠকে বসে এঁরা নিয়মিত এসকল বিষয়ের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করবেন৤ গরমের ছুটি ও উৎসবের ছুটিকেও এঁরা কাজে লাগাবেন৤       

      বানান-অভিধানে বাংলা প্রতিটি শব্দের বানান থাকবে, তার প্রাতিবেশিক গঠন ও পরিবর্তন নির্ধারণ করা হবে৤ একটি শব্দের একটিই মাত্র বানান থাকবে, কোনও দ্বিতীয় বিকল্প থাকবে না, সেরকম দ্বিতীয় বিকল্প একেবারেই অনুমোদিত হবে না৤ অভিধানে অনুমোদিত বানানই সবাই ব্যবহার করবেন৤ বাংলা বানান অভিধানের জন্য নতুন শব্দ ও বানানের গঠন প্রস্তাব পাঠানো যাবে৤ যদি কোনও বানানে সংস্কার করা হয়, তবে পূর্ববর্তী সংস্করণে/ সংস্করণগুলিতে কী বানান ছিল তাও ছোট হরফে দেখাতে হবে, যাতে পরিবর্তন এবং তার ধারা বোঝা যায়৤ ইন্টারনেটে বাংলা বানান অভিধান প্রচার করতে হবে এবং অন্যান্য উপসভার অধীত, আলোচিত ও অর্জিত বিষয়গুলি ও তার প্রক্রিয়া পদ্ধতি দেখাতে হবে৤ এজন্য বাভানিস একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন যেখানে সম্পর্কিত এসকল বিষয়ের দশটি বিভাগেরই সুবিস্তৃত ও সুবিন্যস্ত তথ্যাদি থাকবে৤       

       বাংলা একটি অতি উন্নত আন্তর্জাতিক ভাষা৤ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভাষা, যে ভাষার সম্মানে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, সেভাষাকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে৤ ওয়েবে যে বাংলা উইকিপিডিয়া আছে তাকে একটি বহুল তথ্য সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় উন্নীত করতে হবে৤ যাদবপুরের(কোলকাতা) 'বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষদ পরিকল্পিত ও সংকলিত' বাংলাভাষায় যে "জাতীয় অভিধান" প্রকাশ শুরু হয়েছে তার সুষ্ঠু ও দ্রুত প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে(জুন, ১৯৯৬-তে প্রথম খণ্ড প্রকাশের পর এটি থেমে আছে)৤ এমন অভাবিতপূর্ব ও উন্নত অভিধান বাংলা ব্যতীত অন্যত্র, ভারতীয় উপমহাদেশে, বা বিশ্বের আর কোনও ভাষায় সম্ভবত নেই৤       

     শেষের তথা দশ-সংখ্যক উপসভাটি বাংলাভাষার উদ্ভব বিষয়ক বিস্তারিত এবং অনুপুঙ্খ ইতিহাস লিখবেন৤       

     এখন থেকে বাভানিস বাংলা ভাষা বিষয়ক সকল বিষয়ের আধিকারিক হবেন, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজের সুবিধামতো বা অভিলাষ মতো কোনও কাজ করবেন না৤ তাঁরা সকল সংস্কার-প্রস্তাব বাভানিস-কে পাঠাবেন, বাভানিস সে প্রস্তাব বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন৤

        পরিভাষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার৤ পরিভাষা খুব কমসংখ্যক করতে হবে, আমরা পরিভাষা করার উদ্দেশ্য ধরে নেই যে, তা বিদেশি শব্দটিকে বাংলার জলে ধুয়ে পরিশুদ্ধ করা৤ কিন্তু আসলে উদ্দেশ্য তো তা নয়, উদ্দেশ্য হল, অবোধ্য শব্দটির অর্থ সহজবোধ্য করা৤ যে-শব্দ বহুল প্রচলিত তাকে মিছিমিছি বাংলা করার চেষ্টা করা বৃথা(আসলে তা করা হচ্ছে সংস্কৃত!), যে-সমস্যা সত্যিই নেই, সেই কাল্পনিক সমস্যা দূর করার  দরকার কী? যেমন, দারোগা=অবর পরিদর্শক করে সমস্যা বরং বাড়বে৤ আবার, এডাল্ট ফ্রানচাইজ (adult franchise) কথাটি দুর্বোধ্য বলে, 'পূর্ণ বয়স্কের ভোটাধিকার' লেখার দরকার আছে৤ পরিভাষার প্রয়োজন এবং ক্ষেত্রটা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে৤       

       এই আধুনিক ও কারিগরি যুগের উপযোগী করে বাংলাভাষার সুবিস্তৃত ও সুবিন্যস্ত সংস্কার করার জন্য বাভানিস একটি প্রকল্প নেবেন, যাতে বাংলাভাষা বিশ্বের সকল উন্নত ভাষার সঙ্গে সমাসনে বসতে ও চলতে পারে৤ বাংলাভাষীর  সংখ্যা অতি বিপুল(বিশ্বে চতুর্থ বা পঞ্চম) হলেই হবে না, তার বরাসনের ক্ষেত্রটাও তৈরি করা দরকার৤ বর্তমানে বাংলাভাষা ইন্টারনেটের জগতে অনেকটাই অবহেলিত৤ যদিও বহু মানুষের সনিষ্ঠ ব্যক্তিগত অক্লান্ত উদ্যোগে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে৤ সে হতমান বিবর্ণ অবস্থা যৌথ বঙ্গীয় জাতীয় প্রয়াসে কাটিয়ে উঠতে হবে৤ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কর্মপ্রয়াস এবং ক্লান্তিহীন নিষ্ঠাই একমাত্র পারে সে অভাব পূরণ করতে৤       

     একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ পাথেয় করে, দুহাত ঊর্ধ্বে তুলে বুক চিতিয়ে, ডেঁটে দাঁড়াতে হবে সমগ্র বিশ্বের সামনে৤ বাংলাকে আমরা সম্মুখ সারিতে নিয়ে আসবই৤ সমাগত সেই ভবিষ্যৎ আলোর-ঊষা আমাদের কপালে জয়টিকা পরাক৤ আর একবার নতুন করে দুহাত ঊর্ধ্বে তুলে বলা যাক– জয় বাংলা৤ 

 

 

— মনোজকুমার দ. গিরিশ৤  ০৫/০৮/২০০৯   কোলকাতা-৩৯৤

  

 

 

About মনোজকুমার দ. গিরিশ

Check Also

পাট জিনোমের স্বপ্নযাত্রা

আমি যে টেলিফোন কলটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম সেটি এল পড়ন্ত বিকেলে। ডাটা সফটের মাহবুব জামান …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. বর্তমানে বাভানিস কতটা কার্যকর আছে । তাদের নির্ধারিত কাজ করছে কি ? তাদের উদ্দোগে বাংলা উইকিপিডিয়া বা বাংলাপিডিয়া আরও উন্নত করন বা তথ্যসম্মৃদ্ধ করা হচ্ছে কি ? এগুলো না করলে বাভানিস-এর তেমন কোনও কার্যকারিতা থাকে না ।
    বাংলাভাষা ইন্টারনেটে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হোক; আমরা বিপুল তথ্যসম্মৃদ্ধ বাংলা ওয়েব চাই ।
    সকলকে ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।