রোবট বানানোর পিছনের কথা

আমরা যারা রোবট বানানোর কথা চিন্তা করছি এবং ভাবছি কেন আমার দেশে আজ উন্নত মানের রোবট বানাতে পারছে না তাদের জন্য কিছু কথা আমি আমার এই লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ করতে চাই।
রোবট তথা কৃত্রিম মানব কোন একক প্রকৌশলীর অবদান নয়। এই কৃত্রিম মানুষটি বানানোর ক্ষেত্রে যে সকল প্রকৌশল বিদ্যার আবদান আছে সেগুলো হল
যন্ত্র প্রকৌশল
তড়িৎ প্রকৌশল
কম্পিউটার প্রকৌশল

প্রথমে আসা যাক যন্ত্র প্রকৌশলীর কাজ সমন্ধে
আমরা চিন্তা করছি একটি কৃত্রিম মানবের কথা যে কিনা মানুষের মত দেখতে হবে মানুষের মত হাটবে এবং সর্বপরি মানুষকে সহায়তা করার জন্য তার হাত থাকা আবশ্যক। মানুষের পক্ষে উপরের কাজগুলো করা যত সহজ রোবটের পক্ষে ঠিক ততোটাই কঠিন। মানুষ যখন সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে তখন তার ভার কেন্দ্র প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে যা আমরা অনুভব করতে পারি না। কিন্তু রোরট সেটা অনুভব করতে পারে। যার কারনে সিড়ি দিয়ে উপরে বা নিচে নামতে গেলে সে ভুপাতিত হয়। ভুপাতিত হয়ার পরে সে আবার উঠে দারাবে কিনা সে তা জানেনা। দেখাগেল আমার রোবটের সকল কিছু ঠিক আছে কিন্তু তার ওজন এত বেশী হয়ে গেছে যে সে নড়তে পারে না। তারপর আমার রোবট কি পদার্থ দিয়ে তৈরী হবে? সেটি কতটুকু মজবুত হবে? কতটুকু তাপ সহ্য করতে পারবে?সে কি কি কাজ করতে পারবে?কত জোরে হাটতে পারবে? আদৌ দৌড়াতে পারবে কি না? তাকে পরিচালনা করতে কতটুকু শক্তি লাগবে? সেটি কোথা থেকে আসবে এবং সর্বপরি সে দেখতে কেমন হবে? তা ঠিক করবে একজন দক্ষ যন্ত্র প্রকৌশলী।

এবার আসা যাক তড়িৎ প্রকৌশলীর কাজ সমন্ধে
মানুষের ইন্দ্রীয় ৫টি। প্রত্যেক ইন্দ্রীয়ের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কাজ।যেমন ধরুন চোখের কাজ হল দেখা, নাকের কাজ গন্ধ অনুভব করা, ত্বকের কাজ স্পর্শ অনুভব করা, জিহব্বার কাজ স্বাদ অনুভব করা, কানের কাজ শোনা।রোবতের ক্ষেত্রে ইন্দ্রীয়ের কাজ তড়িৎ প্রকৌশলী সম্পদানা করে থাকেন। না হলে দেখা যাবে কোন কিছু তুলতে গেলে বেচারা নিজের হাত না বিসর্জন দিয়ে বসে। আমাদের রোবটের হাত কিংবা পায়ের চলাচল মটরের সাহায্যেও হতে পারে আবার বায়ুর মাধ্যমে হতে পারে। যদি বায়ুর মাধ্যমে হয় তা হলে একটি compressor আরvacuum pump প্রয়োজন যা যন্ত্র প্রকৌশলী নকশা করবে।সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যে processor, ram ইত্যাদি ক্ষুদ্রাদি জিনিসের প্রয়োজন তা একজন তড়িৎ প্রকৌশলী নকশা করবে।

সর্বশেষ কিন্তু সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন অবদান যার সে হল কম্পিউটার প্রকৌশলী
যন্ত্র প্রকৌশলী ও তড়িৎ প্রকৌশলী মোটামুটি একটা রোবট তৈরী ঠিকই পারবে কিন্তু সে রোবটের কোন প্রাণ থাকবে না। সে একটা মৃত মানুষ বৈকি আর কিছু নয়। তাকে প্রান দেওয়ার দায়িত্ব কম্পিউটার প্রকৌশলীর। চোখ দিয়ে সে কি দেখবে? সেটা থেকে কি বা বুঝবে? হাত দিয়ে সে কি অনুভব করবে ইত্যাদি সকল প্রকার কাজ করবে একজন দক্ষ কম্পিউটার প্রকৌশলী। রোবটের প্রোগ্রামিং এর জন্য নিউরাল নেটওয়ার্ক খুব জনপ্রিয়। কিন্তু দুখেঃর ব্যাপার হল এই বিষয় আমার জানামতে আমাদের দেশে কোথাও পড়ান হয় না। যার কারনে আমরা উন্নত মানের রোবট তৈরী করতে পারি না। নিউরাল নেটওয়ার্ক ছাড়া আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে রোবট বানাবার জন্য মাইক্রো কন্ট্রোলার ব্যবহার করতে পাড়ি যা আমাদের খরচ অনেক অংশে কমিয়ে দিবে। এছাড়া মাইক্রো প্রসেসর প্রোগ্রামিং আমাদের রোবট কে আরও আধুনিক করতে পারে। আমাদের রোবট কে দূর থেকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য ইনফ্রারেড অথবা রেডিও ওয়েভ রিমোট অথবা কম্পিউটার ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ গেল প্রকৌশলীদের কাজ কিন্তু সর্বপরি একটি রোবট বানাতে গেলে পৃষ্ঠপোষকের অবদান সবচাইতে বেশী এটা আমাদের সকলের এক বাক্যে স্বীকার করতেই হবে।

ফেসবুক কমেন্ট


4 Comments

  1. রেদওয়ান নেওয়াজ,

    Thank you for your interesting insightful article. We know many pioneering innovatations came from Bengali Scientists:
    1. Wireless Communications – J C Bose
    2. Quantum Theory – S Bose
    3. High Raised Architectures – F R Khan
    Now it is your turn! Merge your passion with innovation! Make your move!

    Shuvarthee,

    Shafiul

  2. রোবট সম্পর্কে আমার কোন ধারনা খাকলেও আমি তা তৈরীর উকরন সম্পর্কে জানিনা আমার রোবট তেরীর উপকরন গুলো সম্পর্কে জানতে হবে

  3. রোবট বানোর সখ আমার অনেক। কিন্তু কম্পিউটার নিয়ে জীবন চলার সখ আরো বেশি। কি নিয়ে পড়াশোনা করব তাই ভাবছিলাম। যার জন্য ইলেক্ট্রন্কিস পড়ার উচ্ছা জাগল সেই রোবট বানাতেই যদি না পারি তাহলে এই সাবজেক্ট বাদ দেয়াই শ্রেয় মনে করছি। তাই কম্পিউটারই শেষ ভরসা……………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*