দাঁত ‎

দাঁত

সকল সুখের উৎস, সকল দুঃখের মূল

 

   মনোজকুমার . গিরিশ      

 

      

 

    দাঁত নিয়ে আলোচনায় আমি দু-একটি কথা বলতে চাই৤ দাঁতে ব্যথা হয় না, বা হয়নি এমন লোক মেলা ভার৤ তার কারণ খাবারের কণা দাঁতে থেকে যায়, সব সময়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়ে ওঠেনা৤ এমনকি পরিষ্কার করলেও সব কণা দূর হয় না৤ সেই কণাগুলি পচে মাড়ির ক্ষতি করে৤ এজন্য মাড়ি ও দাঁত বাঁচাতে আমরা রোজ দাঁত মেজে পরিষ্কার করি৤ কিন্তু তার পদ্ধতি ঠিক না হওয়ায় দাঁতের সঠিক সুরক্ষা হয় না৤ আমি যেটা করি সেটা জানাই৤ দুপুরে খাবার পরে আমি ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজি৤ আর রাতে খাবার পরে আঙুল দিয়ে মাড়ি ঘসে দাঁত মাজি৤ এতে দাঁতের সুরক্ষা অনেক বেশি হয়, ফলে দাঁত দীর্ঘকাল ভালো থাকবে৤ ব্যথা যন্ত্রণা প্রায় থাকবে না৤ হাতের আঙুল দিয়ে মাড়ি ঘসার সময়ে চার মাড়ির ভিতরে এবং বাইরে মাজতে হবে৤ রোজই এটা করতে হবে৤ মনে রাখতে হবে– হাতের আঙুল হল দাঁতের সবচেয়ে বড় ডাক্তার৤      

     যে ভাবে আমরা ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজি তা একটু পালটে ফেলতে হবে৤ মাজার পদ্ধতি ভুল হলে, দাঁত পরিষ্কার হলেও মাড়ির ক্ষতি হবে৤       

     প্রথমে হাঁ করে মুখের ভিতর বরাবর দাঁতের উপর দিকটায়(হরাইজন্টাল) ব্রাশ চালিয়ে দাঁতের উপরের দিকটা পরিষ্কার করে নিয়ে, তারপরে দাঁতের পাশের দিক তথা মাড়ির দিকটা(ভার্টিক্যাল) মাজতে হবে৤ এটাতেই ত্রুটি হয়৤ পাশের দিক তথা মাড়ির দিকটা মাজতে গিয়েই যত গোল৤ এখানে হরাইজন্টাল মাজা যাবে না, এখানটায় ভার্টিক্যালি মাজতে হবে৤       

     পদ্ধতিটা হবে– উপরের মাড়িতে ব্রাশ বসিয়ে তা নিচের দিকে ঘসে খাড়াভাবে নামাতে হবে, কিন্তু সেটা যেন নীচের মাড়িতে গিয়ে কখনও না লাগে, উপরের মাড়ির দাঁত পার হবার পরে ব্রাশ একটু উঁচুতে তুলে নিয়ে ব্রাশ আবারও উপরের মাড়ির গোড়ায় আগের স্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে৤ নীচের মাড়িতে যেন কখনোই ঘসা না লাগে৤       

     ব্রাশ আসলে উপর থেকে নীচ, এবং সেখান থেকে একটু উপরে উঠিয়ে, নীচ থেকে উপরে– এভাবে উপর-নীচ ↑↓ চক্রাকারে ঘুরতে থাকবে(কিন্তু পাশাপাশি →← বরাবর নয়)৤ ব্রাশ উপর থেকে নীচে খাড়াভাবে নামানোর সময়ে কেবল দাঁতে চাপ পড়বে, কিন্তু ব্রাশ নীচ থেকে উপরে তোলার সময়ে তা দাঁত বা মাড়ি স্পর্শই করবে না৤ দাঁত মাজার সময়ে মুখ খানিকটা হাঁ করতে তো হবেই৤ মাড়িতে উলটো দিক দিয়ে ঘসা, বা পাশাপাশি ঘসা চলবে না৤ প্রতিটি মাড়ির দাঁত আলাদা করে মাজতে হবে৤ এভাবে চার পাটির বাইরেটা প্রত্যেকটিই আলাদা করে মাজতে হবে, ব্রাশ দিয়ে পাটির ভিতরে মাজার দরকার নেই, তাতে মাড়িতে আঘাত লাগবে৤ ছবিতে দেখুন  daant-2শুনে হয়তো জটিল বলে মনে হচ্ছে কিন্তু মোটেই জটিল নয়৤ প্রথমে অভ্যাস করতে কিছুটা সময় লাগবে৤ নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে৤ এভাবে চললে দীর্ঘকাল দাঁতে কোনও অসুবিধে, বা ব্যথা যন্ত্রণা প্রায় হবে না৤

       ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজার কালে দাঁতের ময়লা বা কণা ইত্যাদি পরিস্কার করতে গিয়ে মাড়ির ক্ষতি না-হয় সেটা লক্ষ রাখতে হবে৤ মাড়ির ভিতর বরাবর ঘসলে মাড়ির ক্ষতি হয়, আর সেই ভুল ভাবেই প্রায় সকলে দাঁত মাজেন৤ এটা না করে সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকবে৤ আর মনে রাখতে হবে যে, ডান হাতের আঙুল হল দাঁতের সবচেয়ে বড় ডাক্তার৤ রোজ অল্প একটু সময় ধরে হাতের আঙুল দিয়ে দাঁত মাজুন, তা হলে আর কোঁ-কোঁ করতে করতে হাতে গাল চেপে ডাক্তারের কাছে দৌড়তে হবে না৤ ডাক্তার কী করবেন? আপনার ব্যথা কমাবার জন্য ব্যথানাশক ওষুধ দেবেন, ব্যথা কমলে তাঁর সাঁড়াশি তো আছেই! 

daant

 

       দাঁত হল সকল সুখের উৎস, সকল দুঃখের মূল, তাই দাঁতের যত্ন নিন৤ দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বুঝলে, দাঁতই আপনাকে তা বুঝিয়ে ছাড়বে৤ 

 

 

 

 

 

 

ছবি ঋণ: সংবাদপত্র থেকে ছবি সহায়তা নেওয়া হয়েছে৤

 

About মনোজকুমার দ. গিরিশ

Check Also

মোবাইলের মাধ‍্যমে ম‍্যালেরিয়া সনাক্ত করা যাবে

মোবাইলের অনেক ধরনের ব‍্যবহার আমরা দেখেছি কিন্তু সেটা িদয়ে রোগ নির্নয় করা যাবে তা মনে …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. মনোজকুমার দ. গিরিশ, Chomotkar! Thanks.

  2. মনোজকুমার দ. গিরিশ

    Shafiul Islam শফিউল ইসলামকে ধন্যবাদ৤ তিনি যে লিংক দিয়েছেন সেটি ‎দেখলাম৤ তার কিছু জানা, কিছু জানা নেই৤ তাঁকে ধন্যবাদ৤ ‎
    ১৤কোল্ড ড্রিংক বাদ৤এর এসিডে দাঁত ক্ষয় করে৤ মুখ ধুতে হবে৤ তাতে ক্ষতি ‎কমবে৤ এযুগে এটি একটি ফ্যাশনেবল বদ অভ্যাস৤ ‎
    ২৤মিষ্টি/লজেন্স বাদ৤ এতে দাঁতের ক্ষয় হয়৤ মুখ ধুতে হবে মিষ্টি খেলেই৤ ‎বাচ্চাদের আটকাতে হবে৤ ‎
    ৩৤মদ ইত্যাদি বাদ৤ দাঁতের খুব ক্ষয় করে৤ ‎
    ৪৤লিপস্টিক ক্ষতিকর৤ মেয়েরা সাবধান৤ সাজতে গিয়ে বিপদে পড়তে হবে৤ ‎
    ৫৤ব্যাগেল- একধরনের ছোট গোল রুটি মাঝখানে ফুটো৤ এটা এদেশে তেমন ‎চলে না৤ ‎
    ৬৤অজান্তে জিভ দিয়ে দাঁত ঠেলা৤ সামনের দাঁতগুলির এতে খুব ক্ষতি হয়৤ ‎
    ৭৤অতি শক্ত কিছু জোর করে দাঁত দিয়ে চিবানো বা ভাঙা৤ পৌরুষ দেখাতে ‎গিয়ে বিপদ দাঁতের৤ অল্পবয়সিরা সাবধান৤ ‎
    আমি সাধারণভাবে দাঁতের পরিচর্যার কথা বলেছি৤ দাঁত কীভাবে মাজতে ‎হয়, সেটাই আমার বলার উদ্দেশ্য ছিল৤ দাঁত মেজেও কেন দাঁত ঠিক থাকে না ‎তার কথা আলোচনা করা হয়েছিল৤ ভালোই হল আরও আলোচনা হল৤ ‎
    মনোজকুমার দ. গিরিশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।