Home / কৃষি / পুষ্টির চাহিদা পূরণে দেশি ফলই যথেষ্ট

পুষ্টির চাহিদা পূরণে দেশি ফলই যথেষ্ট

  • প্রথম আলো থেকে সংগ্রীহিত

দেশের
মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে দেশি ফলই যথেষ্ট, বিদেশি ফলের প্রয়োজন নেই।
এ ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা চাহিদার তুলনায় দেশি ফলের জোগান কম। অন্যদিকে
দেশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষের জানারও ঘাটতি রয়েছে।
জাতিসংঘের
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কারিগরি সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট দুই বছর ধরে দেশের ৭৫টি শস্য ও শাকসবজি,
ফলমূলের পুষ্টিমান যাচাই করে এ কথা বলেছে। খাদ্যমান যাচাইয়ের পর সম্প্রতি
বিশ্ববিদ্যালয় একটি খাদ্যমান সূচক তৈরি করেছে। এতে দেশের কোন খাদ্যের
পুষ্টিমান কী, তা বলা হয়েছে।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের
শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ফল বললেই বেশির ভাগ মানুষ
সাধারণত আঙুর, আপেল, নাশপাতি এসব বিদেশি ফলের কথাই ভাবে। কিন্তু গবেষণায়
দেখা গেছে, আম, পেয়ারা, আমড়া, আমলকির পুষ্টিগুণ বিদেশি অনেক ফলের চেয়ে
বেশি।
শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, আঙুর বা নাশপাতিতে কার্বোহাইড্রেট (শর্করা
ও শ্বেতসারের যৌগ) ও পানি ছাড়া কিছুই নেই। আপেল পুষ্টিমানসমৃদ্ধ ফল। এতে
লৌহ, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেট আছে। তবে দামে চড়া, সাধারণ
মানুষের নাগালের বাইরে। আর পেয়ারায় আপেলের চেয়ে বাড়তি আছে ভিটামিন-সি।
পেয়ারা সহজলভ্য, দামও কম।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান
আখতারুন্নাহার বলেন, রক্তস্বল্পতা দূর করতে লৌহ, ডায়রিয়ার পর শিশুদের
অপুষ্টি রোধ ও দেহের বৃদ্ধির জন্য জিঙ্ক, হাড় ও দাঁতের গঠনে ক্যালসিয়াম,
হূদরোগের ঝুঁকি এড়াতে ম্যাগনেশিয়াম, মানসিক অবসাদ দূর করতে পটাশিয়াম,
মস্তিষ্ক ও হাড়ের মজ্জার সুস্থতা বজায় রাখতে ফসফরাস এবং চোখ ভালো রাখতে
ক্যারোটিন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব খাদ্য
উপাদান প্রয়োজন, তার সবই আমাদের দেশি ফলমূল ও শাকসবজিতে আছে।'
দেশি
ফলের গুণ: ডেউয়া, লটকন, কতবেল দেশের বিভিন্ন শহর ও বাজারে বিক্রি হলেও এসব
ফলের খুব একটা কদর নেই, যতটা বিদেশি ফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়। অথচ
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ডেউয়া খুবই পুষ্টিমানসমৃদ্ধ ফল। ১০০ গ্রাম ডেউয়াতে
৩৯৮০ মাইক্রোগ্রাম জিঙ্ক, ৫২৫৪ দশমিক ৭৪ মাইক্রোগ্রাম লৌহ এবং ৩৪৮ দশমিক
৩৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম আছে। লটকন ও কতবেলেও এই তিনটি খাদ্য উপাদান
পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। ১০০ গ্রাম পাকা আমে ক্যারোটিনের পরিমাণ ২ দশমিক
৫৬ মিলিগ্রাম, লৌহ ১৩১২ দশমিক ৩৪ মাইক্রোগ্রাম আছে। ১০০ গ্রাম পাকা
পেঁপেতে ক্যারোটিনের পরিমাণ ২ দশমিক ৩৩ মিলিগ্রাম, জিঙ্ক ২৯৩৩
মাইক্রোগ্রাম। কালো জাম, পাকা কলা, আমলকি, পাকা তাল, লিচু, আনারসেও আছে
প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান।
অবহেলায় দেশি ফল: পুষ্টিবিদেরা বলছেন,
অপুষ্টি দূর করার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশি ফলের উৎপাদন বাড়াতে সরকার বড়
ধরনের উদ্যোগ কখনো নেয়নি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলতে শুধু পর্যাপ্ত
পরিমাণ ধান উৎপাদনকেই বোঝানো হয়। কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক (খাদ্যশস্য
শাখা) শফিকুল আলম জানান, দেশে বছরে ফলের চাহিদা ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৫
মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হয় চাহিদার অর্ধেকের কিছু বেশি। অন্যদিকে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদেশ থেকে প্রায় সাড়ে
৮০০ কোটি টাকার ফল আমদানি করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল প্রায়
৩৩৭ কোটি টাকা।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও এফএও একটি
প্রতিবেদনে বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের ভাত
খাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের মানুষ ভাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল
হওয়ায় শরীরে অন্যান্য খাদ্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ভাতের অবদান
বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য তালিকার ৬৫-৭০ শতাংশ, কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি।
অন্যদিকে শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণের হার দৈনিক ১৯০ গ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা (হু) ও এফএও বলছে, খাবারে ভাতের পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ এবং
শাকসবজি ও ফলমূল হবে দৈনিক ৪০০ গ্রাম। এফএওর ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান
পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ললিতা ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস
পরিবর্তন করার জন্য সচেতনতার পাশাপাশি ফলমূল ও শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি
করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে দেশে
বিচ্ছিন্নভাবে পুষ্টিকর ফলমূল উৎপাদনে কৃষকদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু সমন্বিত বিশদ কোনো পরিকল্পনা নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে,
জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমের (এনএনপি) আওতায় পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে পুষ্টি বাগান করা হতো। বর্তমানে কার্যক্রম থেকে পুষ্টি বাগান
বাদ দেওয়া হয়েছে। সাবেক এক কর্মকর্তা মো. বাশারত আলী সরকার প্রথম আলোকে
বলেন, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি উৎপাদনের ওই কাজে একজন কৃষকের খরচ হতো মাত্র
২২০ টাকা। আঙিনার একপাশে পেঁপে গাছ বা পেয়ারা গাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া
হয়েছিল।
এনএনপির সহকারী পরিচালক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,
প্রকল্পের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় মূল কার্যক্রম থেকে পুষ্টি বাগান
বাদ দেওয়া হয়। তবে আগামী বছর পুষ্টি কার্যক্রমে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার
চিন্তা-ভাবনা চলছে।শেখ সাবিহা আলম | তারিখ: ২২-১২-২০১০

About salmaAkter

Check Also

একটি অর্থকরী ফসল আলু

{mosimage} {mosimage} কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের মানুষের কৃষিই একমাত্র ভরসা। ১৬ কোটি মানুষের প্রতিদিনের খাবার যোগান দিচ্ছে …

ফেসবুক কমেন্ট


  1. Seeking moderators help please….পুষ্টির চাহিদা পূরণে দেশি ফলই যথেষ্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।