Home / কৃষি / চলতি পথে রাবার বাগানে

চলতি পথে রাবার বাগানে

পল্লব মোহাইমেন | তারিখ: ২১-১২-২০১০

undefined 

রাবার গাছের কষ সংগ্রহ করে তা জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

ছবি: লেখক

মধুপুর
থেকে ময়মনসিংহের রাস্তায় কখনো গিয়েছেন? যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা তো জানেনই।
আর যাঁরা যাননি, তাঁদের জন্য একটা কথাই বলা যায়, অপূর্ব এক রাস্তা।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরে যেতে হয় মুক্তাগাছা হয়ে। মধুপুর
শহর পেরিয়ে চার-পাঁচ কিলোমিটার গেলেই রাস্তাটা ঢুকে গেছে মধুপুর বনাঞ্চলে।
জাতীয় উদ্যান এটা। দুই লেনের পিচঢালা পথ চলে গেছে বনের মধ্য দিয়ে। রাতে
শেয়াল চলে আসে পথের ওপর। ভোরে মাঝেমধ্যে বানর-হনুমানের দেখাও মেলে।
মধুপুর
বনাঞ্চলের নামডাক বেশ। ময়মনসিংহের দিকে বনটা যখন শেষ হবে হবে, তখনই শুরু
রসুলপুর জাতীয় উদ্যানের। পথবন পেরোনোর পর কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে
দিকনির্দেশক বড়সড় একটা সাইনবোর্ড। তীরচিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে, এই দিকে
‘কমলাপুর রাবার বাগান, ৫.২ কিলোমিটার'। যতবার ময়মনসিংহ-মধুপুর রাস্তায়
গিয়েছি, ততবারই এটা চোখে পড়েছে। গত মাসে সাইনবোর্ড পেরোতে পেরোতেই রাবার
বাগান দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
উঠল বাই তো কটক যাই! আর চলতি পথে
একটা রাবার বাগান দেখার শখ তো হতেই পারে! কিছুদূর পাকা রাস্তা। এরপর লাল
মাটির রাস্তা। এই মাটির রাস্তাই নিয়ে গেল রাবার বাগানে। এটা বন বিভাগের
বাগান। অসংখ্য রাবারগাছ, সারি সারি সজ্জিত। পাতার রং গাঢ় সবুজ। গাত্রবর্ণ
ছাইয়ের মতো। প্রতিটি গাছের কাণ্ডেই ছুরি দিয়ে ছাল চেরা। সেই চেরা অংশ দিয়ে
বেরিয়ে আসছে সাদা কষ। এটাই রাবারের প্রাথমিক রূপ।
এত ছায়াময় বন যে
দাঁড়ালেই প্রশান্তির একটা ছোঁয়া পাওয়া যায়। আর নানা রকম পাখির ডাক-ঘুঘু,
ফিঙে, দোয়েল নানা পাখির দেখাও মেলে। কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর দেখা গেল
রাবারের কষ সংগ্রাহক স্থানীয় মানুষদের। স্থানীয় নারী-পুরুষেরা গাছ থেকে
সংগ্রহ করেন এই কষ। গাছের কাণ্ডে টিনের একটা চোঙার মতো জিনিস লাগানো থাকে।
সেটা বেয়ে সাদা কষ পড়ে গাছের নিচে থাকা টিনের পাত্রে। কমলাপুর বাগানেই
রাবার প্রক্রিয়াকরণের জায়গা। সেখানে এই কষ প্রতি লিটার ৩৫ টাকায় কেনা হয়
দিনমজুরদের কাছ থেকে। আমাদের সামনেই বেশ কয়েকজন সাইকেলের দুই দিকে রাবার
কষভরা পাত্র নিয়ে বন বিভাগের রস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় গেলেন। কয়েকজন নারী
গেলেন মাথায় দুই হাতে কষভরা টিনের পাত্র নিয়ে।
আমরাও গেলাম গাছের রসের
রাবার হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া চাক্ষুস দেখতে। বেশ বড় একটা ইস্পাতের পাত্রে
রাবারগাছের কষ ঢালা হয়। সেটি রাসায়নিক দ্রব্য সহযোগে জ্বাল হতে থাকে।
জ্বাল হতে হতে বেশ ঘন হয়ে যায়, জানালেন বন বিভাগের কর্মীরা। এরপর সেই ঘন
রস ঢালা হয় অ্যালুমিনিয়ামের অনেক প্লেট থাকা আরেকটি পাত্রে। এতে ঘন রস
আয়তাকার টুকরায় রূপান্তরিত হয়। তৈরি হলো রাবার শিট। এরপর একটা ঘরে রাবারের
টুকরোগুলোকে শুকানো হয়, বড় এক চুলার পরোক্ষ আঁচে। তারপর কাপড় শুকানোর মতো
করে বাইরে সার দিয়ে রোদে শুকানো হয়। জানা গেল, এই রাবার শিটগুলো এরপর চলে
যায় দেশের বিভিন্ন প্লাস্টিক বা রাবার পণ্যের কারখানায়। যান্ত্রিক
প্রক্রিয়া থেকে আবার রাবার বাগানের গাঢ় সুবজ প্রকৃতি দিয়ে ফিরে আসা।
মধুপুরের
এই কমলাপুর রাবার বাগান গড়ে উঠেছে ৩০০ একর জমিতে। স্থানীয় লোকজন জানালেন,
এই মধুপুরেই আছে আরও বড় একটি রাবার বাগান। সেই পীরগাছা রাবার বাগান গড়ে
উঠেছে হাজার-বারো শ একর জমির ওপর।
যাঁরা ময়মনসিংহ-মধুপুর সড়কপথে যান,
চলতি পথে হুট করে কমলাপুর রাবার বাগান দেখতে যেতে পারেন। মধুপুর থেকে গেলে
বনের শেষে, আর ময়মনসিংহ গেলে বন শুরুর আগেই পাওয়া যাবে এই বাগানের রাস্তা।
অল্প সময় হাতে থাকলেই হলো। আর সময় হাতে থাকলে মধুপুর বনে ঘোরা যাবে,
পীরগাছা রাবার বাগানও দেখা যাবে। মুক্তাগাছায় যাত্রা বিরতি দিয়ে
মুক্তাগাছার রাজবাড়ী দেখা আর বিখ্যাত মণ্ডা খাওয়া যাবে।

প্রথম আলো থেকে সংগ্রীহিত

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-12-21/news/117228

About salmaAkter

Check Also

একটি অর্থকরী ফসল আলু

{mosimage} {mosimage} কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের মানুষের কৃষিই একমাত্র ভরসা। ১৬ কোটি মানুষের প্রতিদিনের খাবার যোগান দিচ্ছে …

ফেসবুক কমেন্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।