ড. মোহাম্মদ হোসেন মন্ডল সংখিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত

ড.
মোহাম্মদ হোসেন মন্ডল গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার বুজরুক টেংরা
গ্রামে ১৯৩৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২ সালে স্থানীয় বাসুদেবপুর
চন্দ্র কিশোর উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিকোলেশন পরীক্ষায় উর্ত্তীন হন। ১৯৫৪
সালে তিনি রাজশাহী সরকারী কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন শের-ই-বাংলা কৃষি কলেজ হতে ১৯৬০ সালে বিএজি এবং
১৯৬২ সালে এমএজি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬২-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন
এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনষ্টিটিউট, তেজগাঁও ঢাকাতে প্রথমে রিসার্চ এসিস্টেন্ট
এবং পরে এসিস্টেন্ট বোটানিষ্ট হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

ড.
মন্ডল ১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে
গমন করেন। তিনি সেখানকার ইলিনয় স্টেটের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়, আরবানা হতে
১৯৬৭ সালে এম এস এবং ১৯৭২ সালে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭২-৭৭ পর্যন্ত
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়, এমস এবং মিনেসোটা
বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্টপল-এ পোষ্ট ডক্টরাল ফেলো হিসাবে গবেষণা করেন। এসব
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি ভূট্টা, সয়াবিন ও ডালের উপর গবেষনা করেন। ঐ
সময় যুক্তরাষ্ট্রে "পাতা ঝলসানো" নামে ভূট্টার একটি মারাত্নক রোগ দেখা
দেয়। ড. মন্ডল এর গবেষণা ভূট্টার উক্ত রোগের দমন পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে
অত্যন্ত সহায়ক হয়। তিনি গবেষণার মাধ্যমে আরও দেখাতে সমর্থ হন যে, সয়াবিন
গাছ হতে কিছু বর্ধনশীল ফুল ও ফল অপসারণ করলে সয়াবিনের খাদ্য তৈরী ক্ষমতা
উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এসব গবেষণার উপর লিখিত প্রবন্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও
জার্মানীর বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য যে, এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ড. মন্ডল ও তার পরিবার ১৯৭৩ সাল
হতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য ইমিগ্রেশান ভিসা (গ্রীন
কার্ড) পান। এতদসত্বেও দেশে কাজ করার স্বার্থে তিনি পরিবার'সহ ১৯৭৭ সালের
শেষের দিকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি ঐ বছরই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা
ইনষ্টিটিউট (বিএআরআই) এর সহযোগী পরিচালক/পরিচালক (গবেষণা) হিসাবে যোগদান
করেন। ১৯৮৬-৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বিএআরআই এর মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন
করেন। বিএআরআই-এ অবস্থানকালে তিনি প্যাকেজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার
লক্ষ্যে একাধিক ডিসিপ্লিনভিত্তিক গবেষণা কর্মসূচী প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতি
অনুসরণ করে বিএআরআই-এ এখনও বিভিন্ন ফসলের উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা
হচ্ছে। ড. মন্ডল এর নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায় গম, ভূট্টা, তেল বীজ, ডাল
জাতীয় ফসল, আলু ও সবজী ফসলের উপর বেশ কিছু উফশী জাত উদ্ভাবন করা হয়। এসব
প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ভাইয়েরা মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করছেন,
যেমন-গমের জাত কাঞ্চন, সরিষার বারী-৬, ডালের বারী মাস-১, আলুর
ডায়মন্ট/কার্ডিনাল এবং টমেটোর মানিক ও রতন ইত্যাদি।

১৯৮৮ সালে ড. মন্ডলের নেতৃত্বে বিএআরআই এর আওতাধীন দিনাজপুরের হাজী
মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কলেজটি হাজী মোহাম্মদ
দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ড. মন্ডলের
তত্ত্বাবধানে বিএআরআই এর দু'জন বিজ্ঞানী কৃষিতত্ত্বে বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ হতে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। এই গবেষণার মাধ্যমে
দেখানো হয়েছে কি করে মাটির উর্বরতা অক্ষুন্ন রেখে শষ্যের নিবিড়তা (ক্রপিং
ইনটেনসিটি) বাড়ানো যায়।

১৯৯৪ সাল হতে ঋঅঙ/টঘউচ/ডই/এঙই সাহায্য-পুষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে ড.
মোহাম্মদ হোসেন মন্ডল টীম লিডার এবং শষ্য ও কৃষি বিশেষজ্ঞ হিসাবে কর্মরত
ছিলেন। ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারের গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর,
শরীয়তপুর ও পিরোজপুর সমম্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে সমপ্রসারণ ও গবেষণা
বিশেষজ্ঞ এবং টীম লিডার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এসব প্রকল্পের প্রধান
উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রান্তিক, ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকদের
দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা প্রদান করা।

ড. মন্ডল দেশ/বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে ৪০টির অধিক গবেষণা প্রবন্ধ
প্রকাশ করেছেন। তার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
হতে কৃষিতত্ত্বে ৫ জন ছাত্র এম,এস ও ২ জন ছাত্র পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন পেশাজীবি সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং সদস্য। এছাড়া
১৯৮৬-১৯৯২ সাল পর্যন্ত ড. মন্ডল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর
সিন্ডিকেটের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফেসবুক কমেন্ট


One Comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*