লগ-ইন

হোম arrow এসো নিজে করি arrow ইট ভাটার বায়ু দূষণ প্রসঙ্গে
ইট ভাটার বায়ু দূষণ প্রসঙ্গে | প্রিন্ট |
লিখেছেন মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান   
Sunday, 22 November 2009

ভূমিকা

ঢাকা শহরের আশেপাশে গেলেই সারিসারি ইটভাটার চিমনি থেকে বিরামহীন ভাবে কালো ও অন্যান্য বর্ণের ধোঁয়া উড়তে দেখবেন। বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে অনেকদুর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়, এখানে দূষণের মহোৎসবটা সেভাবে দৃশ্যমান হয়ে আপনি কষ্ট পাবেন না। কারণ ঐ ধোঁয়াগুলো কারণে বায়ুর মধ্য দিয়ে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। এছাড়া বোনাস হিসেবে ফুসফুসের ক্ষতিজনিত বিভিন্ন রোগতো আছেই। এই প্রবন্ধে দূষণ এবং এ থেকে পরিত্রানের উপায় সম্পর্কে সচিত্র আলোচনা করা হয়েছে।

সরকারী ব্যবস্থা

ইট ভাটার কারণে দূষণটা এমনই খারাপ যে এটার জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বাইরে আলাদা আইন করা হয়েছে: ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন. ১৯৮৯। সরকারকে এমন আলাদা আইন করার জন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়। তবে একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বাহাদুর ৪০ কোটি ইট ভারতে (ত্রিপুরা রাজ্যে) রপ্তানি করার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের যে ভয়ংকর উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা জেনে আতংকিত না হয়ে পারা যায় না! ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৫ কোটি ইট রপ্তানি হয়েছে, আর ভবিষ্যতে এই চুক্তি আরও বর্ধিত হতে পারে। এক লক্ষ ইট পুড়াতে প্রায় ২০ টন কয়লা দরকার হয়। লাকড়ি ব্যবহার হলে সেটার পরিমাণ হবে আরও বেশি, অবশ্য আইন অনুযায়ী লাকড়ি দিয়ে ইট পোড়ানো নিষিদ্ধও বটে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী এতে প্রায় ৮০ হাজার টন কয়লা পুড়ানোর দরকার হবে।

দূষণের প্রকৃতি

কয়লা/কাঠ পুড়ালে সেগুলো বায়ু দুষণ করে দুইভাবে। প্রথমত: দানাদার পদার্থ (উড়ন্ত ছাই বা কয়লার গুড়া) দ্বারা, ইংরেজিতে যেটাকে particulate matter বা, fly ash বলা যেতে পারে। আর দ্বিতীয়ত এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিকারী গ্যাস নির্গমনের দ্বারা।

দানাদার ছাই/গুড়ার সমস্যা

  • দানাদার পদার্থ বা ছাই বা কয়লার গুড়া ধোঁয়ার সাথে ছড়িয়ে পড়লে সেটা বাতাসের স্বচ্ছতা কমিয়ে দেয় ফলে দৃষ্টিসীমা কমে যায়।
    • এর ফলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হতে পারে
    • ঘন কুয়াশার ফলে বিমান, ফেরী এবং যানবাহন চলাচল ব্যহত হয় এবং দূর্ঘটনার আশংকা বৃদ্ধি পায়
  • বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ার ফলে ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে অ্যাজমা সহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধি বৃদ্ধি পায়;
    • এই ধরণের অসুস্থতাগুলো মানুষের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়,
    • পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ বেড়ে যায়, পারিবারিক সঞ্চয় কমে যায়
    • ফলশ্রুতিতে তা জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে।
  • দানাদার পদার্থগুলো শুধু যে নিজেই দূষণ করে তা নয়, বরং এদের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে বিভিন্ন ধরণের রোগজীবানু/রাসায়নিক পদার্থ দুর দুরান্তে ছড়িয়ে পড়ে
  • ছাই/গুড়াগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন বস্তুর উপর পতিত হয়ে সেগুলোকে নোংরা ও দুষিত করে ফেলতে পারে
    • খোলা জায়গায় শুকানো খাদ্যদ্রব্য (আচার, শুটকী ইত্যাদি) নষ্ট করে;
    • কাপড়-চোপড় এবং অবকাঠামোগুলোকে ময়লা করে ফেলে;
    • উদ্ভিদের পাতার উপর জমে, এর সালোক-সংশ্লেষণ ক্ষমতা তথা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়;
    • জলাশয়ের পানি ঘোলা করে এর ব্যবহারোপযোগীতা কমিয়ে দেয়; জলাশয়ের পৃষ্ঠতলে জমা হওয়ার ফলে জলাশয়ের গভীরে থাকা জলজ উদ্ভিদের কাছে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছুতে পারে না, ফলে সেগুলোর অস্তিত্বও হুমকীর সম্মুখীন হয়।

এসিড গ্যাস

কয়লাতে সাধারণত ১-৩% সালফার থাকে। অবশ্য আমাদের এখানে যেই কয়লা পুড়ানো হয় (ভারত থেকে আমদানীকৃত বলেই জানি) সেগুলোতে এই সালফারে পরিমান প্রায় ১০%(তথ্যসূত্র খুঁজতে হবে)। কয়লার সাথে যখন এই সালফারগুলো পুড়ে তখন সালফারের বিভিন্ন অক্সাইড (SOx) উৎপন্ন হয়। এই অক্সাইডগুলো বাতাসের জলীয় বাষ্প বা কুয়াশা সংস্পর্শে এসিড উৎপন্ন করে (যেমন: সালফার ট্রাই অক্সাইড + পানি --> সালফিউরিক এসিড) যা পরবর্তীতে অন্য অবকাঠামো এবং জীবজগতে ক্ষতি সাধন করে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কারখানার ধোঁয়া হতে এই ধরণের সালফার নির্গমণের ফলে ভারতের তাজমহলের শুভ্র বর্ণ নষ্ট হতে বসেছিলো দেখে এর আশপাশ থেকে কারখানাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো।

দূষণ ঠেকানো: সাধারণ কথাবার্তা

দূষণ ঠেকানোর চেয়ে দূষণ না হতে দেয়াটাই বেশি উপযুক্ত পদ্ধতি। অর্থাৎ জ্বালানী হিসেবে যদি কয়লার বদলে তেল বা গ্যাস ব্যবহার করা হয় তাহলে এ জনিত দূষণ প্রায় পুরাপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সীমিত সম্পদের অধিকারী আমাদের দেশের পক্ষে এমন ব্যবস্থা করা কঠিন।

অপর আরেকটা ব্যবস্থা হতে পারে, পদ্ধতিগত উন্নয়ন। অর্থাৎ যেই প্রক্রিয়াতে পুড়ানো হচ্ছে (বুল'স ট্রেঞ্চ চূল্লী) সেটার উন্নয়ন সাধন যেন দক্ষ পুড়ানোর পদ্ধতির ফলে দানাদার কয়লা নির্গমণ কমে যায়। আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই এই ধরণের কয়েকটা ইট কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানাগুলোতে  হফম্যান ইটচূল্লী পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।  এই পদ্ধতিকে পরিবর্তীত করে আরও উন্নত করা হয়েছে, ফলে জ্বালানীর দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কম জ্বালানী দহনের ফলশ্রুতিতে কম দূষণ হচ্ছে। ইট পুড়ানোর কক্ষে ব্যবহৃত তাপযুক্ত বাতাসকে চিমনী দিয়ে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়ার আগে সুবিন্যস্তভাবে নকশাকৃত কারখানার কক্ষে এমনভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে যেন তা কাঁচা ইটগুলোকে শুকাতে সাহায্য করে।  আরেকটি উন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে ইট তৈরীতে ব্যবহৃত মাটির সাথে শতকরা ২০ ভাগ জ্বালানী (গুড়া কয়লা) মিশিয়ে সেটা দিয়ে ইট বানানো হচ্ছে। এতে গুড়া কয়লার দহন/তাপীয় দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া জ্বালানী (=কয়লা) ইটের উপাদান হিসেবে এর ভেতরে থেকে যাওয়াতে বর্জ্য উৎপাদনের পরিমানও কমে গেছে।

এছাড়া সর্বাধিক প্রচলিত end of the pipe technology হিসেবে দূষণসহ উৎপাদন প্রক্রিয়ার শেষে দুষিত বায়ুকে পরিশোধন করা যেতে পারে।  কলকারখানাগুলো থেকে পানি দূষণ রোধে বর্জ্যশোধনাগার স্থাপন নিয়ে ইদানিং পত্র পত্রিকায় যত লেখালেখি হয় তার সামান্য অংশও বায়ুদুষণ ও তার প্রতিকারের উপায় নিয়ে লেখা হয়েছে বলে আমার চোখে পড়ছে না।  এই লেখার পরবর্তী অংশে দুষিত বায়ু পরিশোধনের জন্য কিছু সহজ এবং সস্তা পদ্ধতি একটু বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

দূষণ ঠেকানো: সহজ লাগসই ব্যবস্থা

এই মুহুর্তে যেহেতু খরচের কারণে রাতারাতি বুল'স ট্রেঞ্চ পদ্ধতিকে পরিবর্তন করা যাবে না তাই সহজ কিছু ব্যবস্থা নিয়ে বায়ু দূষণ, বিশেষত দানাদার পদার্থের দূষণ, উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য থিতানো প্রকোষ্ঠ, সাইক্লোন, এবং ব্যাগহাউজ নামক তিন ধরণের আয়োজন ব্যবহার করতে হবে।  এই পদ্ধতিগুলির বৈশিষ্ট হল যে খুব সাধারণ ধাতব বা অধাতব পদার্থ ব্যবহার করে এগুলো সহজেই বানানো সম্ভব এবং এর পরিচলন ব্যয় নাই বললেই চলে। নিচের বর্ণনা এবং ছবি/স্কেচ দেখলে ব্যাপারটা সহজে বুঝা যাবে বলে আশা করছি।

থিতানো প্রকোষ্ঠ

ধোঁয়ার মধ্যে কিছু বড় বড় গুড়া থাকে যেগুলো ধোঁয়া প্রবাহের বেগের কারণে চিমনি দিয়ে বের হয়ে আসে। এগুলো অপসারণের সহজতম পদ্ধতি হল, গ্যাসটিকে একটি প্রশস্ত প্রকোষ্ঠের মধ্যে দিয়ে পার করানো। এতে চিমনির চেয়ে অনেকগুণ বড় প্রস্থচ্ছেদের কক্ষ দিয়ে অতিক্রম করার ফলে গ্যাসের গতিবেগ কমে যাবে এবং অপেক্ষাকৃত ভারী কণাগুলো ঐ প্রকোষ্ঠের মেঝেতে জমা হবে। খুব সস্তায় এই ধরণের প্রকোষ্ঠ বানাতে হলে একটা ফ্রেমের চারদিকে পলিথিন বা ত্রিপল জড়িয়েই কাজ চালানো যেতে পারে, অথবা সাধারণ টিন দিয়ে একটি নিশ্ছিদ্র প্রকোষ্ঠ তৈরী করতে হবে।  চিত্র দেখুন।

Figure of Settling Chamber for particulates removal from air

সাইক্লোন

প্রথমে বড় দানাদার কণাগুলোকে আলাদা করার জন্য সাইক্লোন ব্যবহার করা হবে। এটা একটা উলম্ব সিলিন্ডার আকৃতির আধার যার নিচের দিকটা সাধারণত জমে থাকা দানাদার পদার্থ অপসারণের সুবিধার্ধে একটু কোন আকৃতির (উল্টানো টোপরের মত) করা হয়ে থাকে।  দানাযুক্ত গ্যাস এই সিলিন্ডারের উপরের দিকে স্পর্শক বরাবর একটি পাইপ দিয়ে প্রবেশ করানো হয়, যেন গ্যাসের প্রবাহের গতির কারণে দানাগুলো সিলিন্ডারের পৃষ্ঠতল বেয়ে ঘুরে ঘুরে পড়তে থাকে। এভাবে পৃষ্ঠতলে ঘেষে পড়ার সময় গতিবেগের কারণে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের দানাগুলোর মধ্যে যে কেন্দ্রবিমূখী বলের সৃষ্টি হয় তার ফলে সেগুলো আর কেন্দ্রে অবস্থিত গ্যাস নির্গমণ পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া গ্যাসের সাথে যেতে পারে না।  আধারের উপরের দিকের কেন্দ্র দিয়ে একটি উলম্ব পাইপ আধারের একটু ভেতর থেকে অপেক্ষাকৃত দানামুক্ত গ্যাস বের করে নিয়ে যাবে। নিচের দিকের একটা ভালভ/পথ মাঝে মাঝে খুলে দিয়ে জমা হওয়া দানাগুলো বের করে ফেলতে হবে। বের করার সময়ে ছাইগুড়াতে একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিলেই সেগুলো ভারি হয়ে পুণরায় উড়ে দুষণ করতে পারবে না। চিত্রে একটি সাইক্লোনের সাধারণ ছেদগুলো দেখানো হয়েছে। বায়ু শোধনের যন্ত্রে এইরকম অনেকগুলো সাইক্লোন একসাথে গুচ্ছ আকারে যুক্ত থাকে। খেয়াল করলে বুঝা যায় যে এই আধারগুলো যে ধাতব পদার্থ দিয়েই বানাতে হবে এমন কোনো কথা নাই। বড় এবং ছোট ব্যাসের সাধারণ পি.ভি.সি. পাইপ দিয়েই এই যন্ত্র বানানো সম্ভব।

Image of clyclone seperator for particulates

ব্যাগহাউজ বা কাপড়ের ফিল্টার

এটা যে কোন পদার্থ দিয়ে তৈরী আধারের মধ্যে কাপড়ের ফিল্টার। আধারটির ভেতরে একটি ফ্রেমের বাইরের দিকে কাপড় মোড়ানো থাকে। সাধারণত, কণাযুক্ত গ্যাস ফিল্টারটির নিচের দিক থেকে কাপড়ের মধ্য দিয়ে উপরের দিকে চলে যায়। কাপড়ের নিচের দিকে আটকে যাওয়া কণাগুলি পর্যায়ক্রমে নিজের ওজনের কারণে নিচের দিকে ঝরে পড়ে। নিচের দিকের একটা পথ /ভালভ খুলে মাঝে মাঝে জমে থাকা দানাগুলো অপসারণ করা যায়। এই ধরণের ফিল্টারে সাধারণত কয়েক স্তরে বিভিন্ন সুক্ষ্ণতার কাপড় দেয়া যেতে পারে। চিত্র দ্রষ্টব্য।

Fabric Filter for particulate removal from polluted air

এসিড গ্যাস নির্গমণ রোধের জন্য গ্যাসকে একটি সাধারণ ফিল্টারের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করাতে হবে - এই ফিল্টারের উপর থেকে নির্দিষ্ট বেগে চুনের পানি ছড়িয়ে দিতে হবে। ফিল্টারের গা বেয়ে চুনের পানি পড়ার সময় গ্যাসের এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলবে। বিকল্প উপায় হিসেবে গ্যাসগুলো ব্যাগহাউজে প্রবেশের পূর্বে এর মধ্যে চূণের গুড়া ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে; এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে ঐ গুড়াগুলো ব্যাগহাউজ দিয়েই অপসারিত হয়ে যাবে।  এছাড়া গ্যাস থেকে যদি পারদ বা ঐধরণের ধাতব পদার্থের গ্যাস দূর করার প্রয়োজন হয় তবে সেই গ্যাসকে বিশুদ্ধ কয়লার গুড়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করাতে হবে!!

খরচাপাতি

ছবি এবং বর্ণনা দেখে নিশ্চয়ই অনুমান করা যাচ্ছে যে, প্রাথমিকভাবে নতুন শোধকযন্ত্র স্থাপন করার খরচ খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। প্রচলিত বুল'স ট্রেঞ্চ চূল্লীর ধোঁয়া দহণ প্রকোষ্ঠ থেকে নির্গমণ চিমনিতে যাওয়ার আগে এমন দুইটি বায়ুশোধকের মধ্য দিয়ে গেলে সেই ধোঁয়া হতে দানাদার পদার্থ মোটামুটি নিখরচায় অপসারণ করা যাবে।  তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর সাইক্লোন এবং ব্যাগহাউজ থেকে ময়লা অপসারণ এবং মাঝে মাঝে ফিল্টার এবং শোধকগুলি পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত কর্মঘন্টার প্রয়োজন হবে। তবে এসিড নিষ্ক্রিয় করার এই পদ্ধতিতে চুনক্রয় এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য পরিচলন খরচ একটু বেড়ে যাবে।

দূষণ কমানোর জন্য সরকারের উচিত ভর্তূকী দিয়ে হলেও ইটভাটাগুলিকে এই ধরণের পদ্ধতিগুলো চালু করতে বাধ্য করা। দূষণ কমার ফলে অর্থনীতিতে যেই ধনাত্নক প্রভাব পড়বে (রোগ তথা চিকিৎসা ব্যয় কমবে, জনগণের কর্মক্ষমতা বাড়বে, সঞ্চয় বাড়বে) সেটার বিচারে খরচগুলো খুব বেশি হওয়ার কথা না। এছাড়া আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কার্বন ফান্ড (CDCF) থেকে কার্বণ বাণিজ্যের অর্থ আদায় করেও সরকার এ থেকে লাভবান হতে পারে।

উপসংহার

ইটভাটাগুলোতে দূষণ কমানোর লক্ষ্যে বায়ুশোধন যন্ত্রপাতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন সংশোধন করে সেটা কঠোর ভাবে প্রয়োগ করলে এই কারণে দূষণের পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেই মনে হয়। এর সাথে পুরাতন এবং অদক্ষ বুল'স ট্রেঞ্চ পদ্ধতির ইটভাটাগুলো পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করে হফম্যান পদ্ধতিতে রূপান্তর করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া যেতে পারে।  এই লক্ষে সরকারী অনুদানে হফম্যান পদ্ধতির নির্মান ও পরিচালনার ব্যাপারে প্রশিক্ষণের অথবা সাশ্রয়ী ম্যানুয়ালের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নতুন করে ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে পুরাতন ও অদক্ষ বুল'স ট্রেঞ্চ পদ্ধতিকে নিষিদ্ধ করাও উচিত বলে মনে হয়।

রপ্তানী বৃদ্ধি করতে হবে সত্য, কিন্তু তাই বলে নিজেদের পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে নয়। তাই এই ধরণের নীতি পরিবর্তন করে ইট রপ্তানীর মহান চুক্তি বাতিল করা হবে এবং এই ধরণের চুক্তি ভবিষ্যতে করা হবে না এমনটাই কাম্য। ইট যদি রপ্তানী করতেই হয় তবে সেটা পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদন করে এবং পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির জন্য যথোপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করে তবেই করা উচিত। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির ফলে আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্য থেকে ভর্তূকী আদায়ের ব্যবস্থা করা হলে সেটা ইটভাটাগুলোর উন্নয়নের খরচ পুরাটাই মেটাতে পারবে বলে আমার ধারণা।

তথ্যসূত্রসমূহ

১. ভারতে ইট রপ্তানি  

২. ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন. ১৯৮৯

৩. উইকিপিডিয়া: কয়লা 

৪. তাজমহলের খবর

৫. উইকিপিডিয়া: বুল'স ট্রেঞ্চ চূল্লী

৬. উইকিপিডিয়া: হফম্যান চূল্লী

৭. উইকিপিডিয়া: ডাস্ট কালেকটর

৮. বই: Environmental Engineering - Howard S Peavy, Donald R Rowe, George Tchobanoglous

৯. বায়ুদূষণ সংক্রান্ত সভার খবর

১০. উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য বিশ্বব্যাংকের কার্বন ফান্ড

মন্তব্যগুলো (2)Add Comment
এই পোস্টের একাধিক লিংক কেন?
লিখেছেন মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান, November 22, 2009
হোমপেজ থেকে এই পোস্টের লিংক দেখায়: http://biggani.com/content/view/1256/71/

কিন্তু নির্দিষ্ট গ্রুপ (স্বাস্থ্য ও পরিবেশ) থেকে লিংক দেখায়: http://biggani.com/content/view/1256/116/

আসল লিংক কোনটা এই নিয়ে একটু কনফিউজড হয়ে আছি :(
montobbo
লিখেছেন arefin asif, December 05, 2009
aupnar lakha ta bortoman somoy uppojuge...

মন্তব্য লিখুন

security code
Write the displayed characters


busy
সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 06 December 2009 )
 
পরে >

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-Noncommercial-No Derivative Works 2.5 License.
Keyword: Bangladesh, Bangla, Bengali, science, technology, nanotechnology, technical, IT, computer, internet, solution, learning, asia, biggan, biggani, scientist, physics, chemistry, content, PHP, program, learn, c language, how, kivhabe, computer tips, amra, sobai, mile, desher, deser, unnoti, korbo, korte, chai, ekushe, ekush, dhaka, khobor, mojar, forum, adda, support, asun, sikhi, siki, sikkha, sikka, projukti, prokashoni, prokash, tothyoprojukti, notun