|
এই কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন ইন্টেলের দক্ষিন এশিয়ার মার্কেটিং এবং অপারেশন ডাইরেক্টর জন ম্যাকলার। ভারত, শ্রিলংকা, নেপাল, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে ইন্টেলের বাজার অবস্থা দেখাশুনার দ্বায়িত্বে তিনি আছেন। ভদ্রলোক যুক্তরাষ্ট্রের সান্টা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্যিনেন্স এবং এশিয়ান স্টাডির উপর দুটি ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন। উল্লেখ্য, ইন্টেল কোর্পোরেশনে যোগদানের আগে তিনি টেলকো এবং মিডিয়ার সেলস ও মার্কটিং এর ডাইরেক্টর ছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে তার সাথে ইন্টেলের নতুন প্রসেসর ও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবস্থা নিয়ে কথা হয়। সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ নিচে তুলে দেয়া হলো:
বাংলাদেশে ইন্টেলের বাজার অবস্থান কি রকম বলে আপনার ধারনা?
দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে বাংলাদেশে ইন্টেলের বাজার অবস্থান চরম পর্যায়ে আছে। এমনকি অন্যান্য দেশের তুলনায় এই দেশে ইন্টেলের বাজার কাটতিও অনেক বেশি। এতোদিন যে পর্যায়ে ভারতের অবস্থান ছিলো সেই পর্যায়কেও বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা এক সময় সারা এশিয়াতে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেখার স্বপ্ন দেখছি। আর এই কারনেই ইন্টেলের বিশেষ নজর আছে এই দেশটির প্রতি।
এবার কিছু ট্যাকনিকেল প্রশ্ন করবো। এএমডির সাথে ইন্টেলের তুলনা কিভাবে করবেন?
এএমডি কোম্পানীকে ইন্টেল কখনোই খাটো করে দেখে না। তবে এএমডির নীতি আর ইন্টেলের নীতির মধ্যে পার্থক্য আছে। তাছাড়া ইন্টেল যেভাবে সারা বিশে¦ ছড়িয়ে পড়েছে এএমডি সেই তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। আর সময়ের ক্ষেপণে, এই মূহুর্তে ইন্টেল তাদের প্রসেসরকে যে পর্যায়ে এনেছে এএমডিকে আরও কষ্ট করতে হবে সে পর্যায়ে পৌঁছতে। ইন্টেলের বর্তমান সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রসেসরের গতি এএমডির বর্তমান সর্বোচ্চ প্রসসরের কার্যক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই প্রথম ইন্টেলের সর্বশেষ এই প্রসেসরের ক্লক স্পিড বেশ কমিয়ে দেয়া হয়েছে? এটা কি অবাক হওয়ার মতো বিষয় নয়? এর কারনে কি পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রসেসরের তুলনায় এর কার্যক্ষমতার তারতম্য ঘটতে পারে না?
হ্যাঁ, এটা ইন্টেলের যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ। কিন্ত্ত এটা করার আগে ইন্টেল অনেক রিসার্চ করেছে এশিয়ার মতো দেশগুলোর বাজার অবস্থানকে। সেই সাথে তারা গবেষনা করেছে প্রসেসরের কার্যক্ষমতাকে। আমরা দেখেছি ক্যাশ মেমোরী বাড়িয়ে দিয়ে একটি প্রসেসরের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়া যায়। আপনি ভেবে দেখুন একজন শক্তিশালী মানুষের চেয়ে দশজন সাধারন মানের শক্তিশালী মানুষের কাজ অনেক বেশি ফলপ্রসূ। ঠিক এই ভাবনাকেই ইন্টেল প্রাধান্য দিয়েছে তাদের সর্বশেষ প্রসেসরের ক্ষেত্রে। আর ক্লক স্পিডের কারনে প্রসেসরের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়ে যায়। যে কারনে ‘কোর ২ ডুও’ ইন্টেল প্রসেসরে ক্যাশ মেমোরি বাড়িয়ে দিয়ে কমিয়ে দেয়া হয়েছে ক্লক স্পিড। ফলে, এতে কার্যক্ষমতা ইন্টেলের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ক্ষমতার ডেস্কটপ প্রসেসরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
গ্রাহকরা কি তাদের পূর্ববর্তী কম্পিউটারকে এই প্রসেসরে আপগ্রেড করতে পারবে?
না, এটা সম্ভব নয়! কেননা, এই প্রসেসরে ব্যবহার করা হয়েছে সম্পূর্ন নতুন স্থাপত্যকৌশল। যে কারনে ডুয়েল কোরের শক্তি, কম্পিউটিং ইঞ্জিন এবং প্রসেসরের ম্যানেজমেন্ট এর কার্যক্ষমতা পূর্বের প্রসেসরের তুলনায় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি ইন্টেলের পূর্ববর্তী প্রসেসরের তুলনায় ৪০% কম শক্তি খরচ করে। আর তাই এর জন্য প্রয়োজন হবে আলাদা মাদারবোর্ড ও পাওয়ার সিস্টেমের।
উইন্ডোজ ভিস্তার জন্য এই প্রসেসর কতটুকু উপযুক্ত? নাকি তখন আবার প্রসেসর পাল্টাতে হবে?
প্রসেসরটি তৈরি করার সময় উইন্ডোজ ভিস্তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এর জন্য আলাদাভাবে মাইক্রোসফটের সাথে কথাও হয়েছে। আর তাই উইন্ডোজ ভিস্তা অপারেটিং সিস্টেম এতে চালাতে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর কোন সমস্যা হবে না।
|