লগ-ইন

হোম arrow কলাম arrow বাংলাদেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়িক সুযোগের কিছু প্রস্তাবনা
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়িক সুযোগের কিছু প্রস্তাবনা | প্রিন্ট |
লিখেছেন Fakruddin Shahariar   
Monday, 18 December 2006

ড. মশিউর রহমানের কাছ থেকে লেখার আমন্ত্রণ পেয়ে খুব উৎসাহ পেলাম- বাংলায় কিছু লেখার জন্য৷ কম্পিউটারে বাংলা লেখা প্রায় ভুলেই যাচ্ছিলাম, ধন্যবাদ বিজ্ঞানী.com কে আবারো উৎসাহ জোগানোর জন্য৷ আমরা যারা বাইরে থাকি পড়াশোনা বা পেশা যে কারণেই হোক না কেন, অনেক কিছুই দেখার সুযোগ পাই যেটা দেখলেই আমাদের প্রথমেই মাথায় আসে ইশ্‌ আমাদের দেশে যদি এরকম কিছু একটা করা যেত? অনেকেই হয়তো বলবেন, “এতই যদি দেশপ্রেম তাহলে বিদেশে না থেকে দেশে এসে দেশের জন্য কিছু একটা করছেন না কেন”? আমি বিনীত ভাবে আপনাদের সাথে একমত পোষণ করছি৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দেশে গেলে এই বঙ্গসন্তানদের মাঝে যে সম্ভাবনাটুকু থাকে বিবিধ কারণে (বেশীর ভাগ সময়ে নষ্ট রাজনীতির কারণে) তাও নষ্ট করে দেওয়া হয়৷ সে যাই হোক এ ব্যাপারে প্রতিটি মানুষেরই ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভংগি ছিল, আছে ও থাকবে এবং আমাদের উচিত প্রত্যেকের মতামতকে শ্রদ্ধার সাথে দেখা৷ আজ যে ব্যাপারটি নিয়ে লেখব সেটি হচ্ছে ইন্টারনেট শপিং

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে এখনো লোকজন শপিং-এর পরিবর্তে মার্কেটিং বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন কিন্তু শপিং এবং মার্কেটিং-এর মাঝে যে বিস্তর পার্থক্য অনেকে বুঝলেও বলতে এখনো অভ্যস্ত নয়৷ আজ ১৬ই ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস৷ আমরা সবাই জানি এ দিনে আমাদের কি বিশাল অর্জন, কিন্তু তাকে আমরা কতটা অর্থবহ করতে পেরেছি বসে বসে সেটাই ভাবছিলাম!

এখানে এখন চলছে শপিং এর মহোৎসব৷ লোকজন কেনাকাটার জন্য পাগল হয়ে ছুটছে, লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অক্সফোর্ড স্ট্রিটে।এখন হাটা মুশকিল৷ লন্ডনের ব্যাস্ততম এই ব্যাস্ততায় প্রতি শনিবারে এখন সব ধরণের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধার জন্য৷ যদিও পরিসংখ্যান বলছে এইবছর লোকজন ঘরে বসে কেনাকাটা করছে অন্যান্য যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী৷ ব্যাপারটি আসলেই বেশ মজার একারণে যে, দোকানদার রাত ৮টা বাজলেই তার দোকানের বাতি নিবিয়ে ঝাপি নামিয়ে চলে যাচ্ছে বাসায় পরিবারের সাথে সময় কাটাতে৷ আর আমরা যারা সারাদিন কাজ করে সময় বের করতে পারি না শপিং এ যাওয়ার কিংবা যারা এই ভিড় ভাট্টায় যেতে পছন্দ করি না তারা রাতে বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে নিজের সময়, নিজের ইলেকট্রিসিটি বিল আর ইন্টারনেট বিল দিয়ে দোকানদারের দোকান খুলে বাজার সদাই করছি নিজেদের সুবিধামতো সময়ে নিজেদের পছন্দে৷

একটু খোলাসা করে বলি, Argos এখানকার একটি বেশ জনপ্রিয় ক্যাটালগ ভিত্তিক দোকান৷ এদের দোকানে কোন পণ্যই (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) সাধারণত সাজিয়ে রাখা হয় না, রাখা হয় স্টোর রুমে৷ দোকানে ঢ়ুকলেই চোখে পড়বে সারি সারি ক্যাটালগ, পেমেন্ট কাউন্টার এবং কালেকশান কাউন্টার৷ ক্যাটালগ থেকে আপানর পছন্দমতো প্রোডাক্ট পছন্দ করে পাশেই রাখা স্টক চেকারে প্রোডাক্ট নাম্বার দিয়ে চেক করে নিতে পারবেন আপনার পছন্দের জিনিসটি স্টকে আছে কিনা? স্টকে থাকলে পেমেন্ট কাউন্টার অথবা সেল্ফ পেমেন্ট কাউন্টারে গিয়ে পেমেন্ট করে দিলে আপনার পছন্দের জিনিসটি চলে আসবে কালেকশান কাউন্টারে অথবা যদি আপনার জিনিসটি বেশী বড় আকারের হয় তাহলে সিলেক্ট করতে পারেন হোম ডেলিভারি অপশনে, তখন আপনার জিনিসটি তারা পাঠিয়ে দিবে আপনার ঠিকানায় আপনার পছন্দ করা দিন এবং সময় অনুসারে৷ একই দোকান থেকে আপনি অনলাইনেও শপিং করতে পারেন৷ ব্যাপারটা একই!! আপনি তাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে আপনার পছন্দ মতো জিনিস ঠিক করে কার্ড (ডেবিট / ক্রেডিট ) এ পেমেন্ট করে অপশন দিতে পারেন হোম ডেলিভারির অথবা আপনার কাছাকাছি তাদের যে কোন স্টোর থেকে জিনিসটি কালেক্ট করার৷

এখন আমাদের মতো যারা ব্যাস্ততার কারণে বা বাইরে যেতে পছন্দ না করার কারণে বা অলসতার কারণে দিনের বেলায় শপিং করতে পারি না তারা আমাদের নিজেদের সুবিধা মত সময়ে দিনে বা রাতে যে কোন সময়ে অনলাইনে বসে তাদের দোকানের ঝাপি খুলে ইচ্ছে মতো শপিং করতে পারি৷ এতে ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের লাভটা হচ্ছে সে বাসায় বসে থেকেও তার দোকান খোলা রাখছে ক্রেতার খরচে (কারণ এ সময়ে তার দোকানে কোন বাতি জ্বলছে না, কোন সেলস্ এসিসটেন্ট না থাকায় তাকে বেতনও দিতে হচ্ছে না, আর কে না জানে এসব দেশে লেবার কস্ট সবচেয়ে বেশী যে কোন ব্যবসা চালানোর জন্য) আর ক্রেতা হিসেবে আমার সুবিধা হচ্ছে আমি আমার পছন্দমতো সময়ে শপিং করতে পারছি৷ আর এ সুবিধার কারণেই প্রতি বছরই বাড়ছে ইন্টারনেট শপিং-এর ব্যবহার৷ হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের চিরাচরিত দোকানের কনসেপ্টটাই বদলে যাবে৷ আমি চাই না এটা ঘটুক, কারণ এতে যারা ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন (আমিও বোধহয় মাঝে মাঝে কাজটা করতে পছন্দ করি!!!) তাদের সমস্যা হবে৷

কাগজে পড়ছি আমাদের বাংলাদেশেও এখন হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেকশান পাওয়া যাচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার এর কারণে। সামনে হয়তো আমরা দেশের বাইরে বসেও দেশের দোকান গুলো থেকে শপিং করতে পারবো (কিছুকিছু ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এখনো করা যাচ্ছে...তবে তাদের সার্ভিস সম্পর্কে এখনো কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে)৷ ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসার ভুরিভুরি উদাহরণ রয়েছে এসব দেশে৷ শুধুমাত্র দোকান নয়, রয়েছে সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসাও৷

শুধুমাত্র ইন্টারনেট-এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যাংক, যাদের কোথাও কোন শাখা নেই কিন্তু করে যাচ্ছে ব্যবসা অসম্ভব সাফল্যের সাথে৷ তেমনি রয়েছে অনেক এয়ার লাইনস্‌ (www.ryanair.com  or www.easyjet.com ) যারা টিকেট বিক্রি করে শুধুমাত্র তাদের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এবং যাদের কোথাও কোন এজেন্ট নেই৷ ফলে খুবই কম দামে তারা তাদের সার্ভিস দিতে পারছে৷ এসব এয়ার লাইনস্‌-এর মাধ্যমে ইউরোপের যে কোন দেশে যাওয়া যায় অবিশাস্য কম খরচে, এমনকি বেশীরভাগ সময়েই কোচ বা ট্রেনের টিকেটের চাইতেও কম খরচ পড়ে এসব এয়ার লাইনস্‌-এ৷ কারণ শুধুমাত্র ইন্টারনেট ভিত্তিক হওয়ার কারণে তারা তাদের অপারেশান কস্ট কমাতে পেরেছে৷ কারণ তাদের কোন এজেন্ট কমিশন দিতে হয় না, কোন পেপার খরচ নেই কারণ কাস্টমারকে নিজের টিকেট নিজেই প্রিন্ট করে নিতে হয়, তেমনি নেই কোন অপারেশন খরচ কারণ তাদের কোন অফিস নেই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় অফিস ছাড়া৷

এছাড়াও আরো একটি ব্যবসা গড়ে উঠছে ইন্টারনেট এর উপর ভিত্তি করে৷ কিছুদিন আগে    ড. ইউনূসও একই ব্যাপারটা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন একটি অনুষ্ঠানে৷ ব্যাপারটি হচ্ছে, উন্নত দেশ গুলোতে প্রতিটি জায়গা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ২৪ ঘন্টা মনিটর করা হয় সিসিটিভি'র মাধ্যমে৷ সিসিটিভি'র কন্ট্রোল রুম গুলোতে বিভিন্ন শিফট্‌-এ কিছু লোকজনকে মনিটরের দিকে দৃষ্টি রাখতে হয় সবসময় দিনরাত ২৪ ঘন্টা৷ যে কোন অস্বাভাবিক কোন কিছু দেখলেই তারা রিপোর্ট করে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে৷ রাতদিন ২৪ ঘন্টার এই শিফট্‌-এ রাতের শিফট্‌-এর জন্য কোম্পানি গুলোকে বহন করতে হয় অতিরিক্ত খরচ৷ কারণ এসব দেশে রাতের শিফট্‌-এ কাজের জন্য লোকজনকে অতিরিক্ত বেতন দিতে হয়৷ আর এমনিতেই এখানে এধরণের কাজের জন্য বেতন দেওয়া লাগে তুলনামূলকভাবে বেশী৷

যেটা বলতে চাচ্ছিলাম সেটা হচ্ছে হাইস্পিড ইন্টানেটের কল্যাণে এ ধরনের মনিটরিং জাতীয় কাজগুলো আমরা নিতে পারি আমাদের দেশে৷ কারণ আরো একটি ব্যবসা ছিল যেটা আমরা আমাদের দেশে নিতে পারিনি আমাদের লোক জনের ইংরেজি বলা এবং বোঝার দূর্বলতার কারনে, সেটি হলো কলসেন্টার৷ হয়তো অনেকেই ব্যাপারটির সাথে পরিচিত৷

যারা কলসেন্টার সমন্ধে জানেননা তাদের সহজভাবে বুঝাতে হলে বলতে হয়, প্রথম বিশ্বে বেশীর ভাগ বড় বড় কোম্পানীই তাদের কাস্টমারদেরকে টেলিফোনের মাধ্যমে সার্ভিস দিয়ে থাকে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছ থেকে বিভিন্ন অর্ডারও নিয়ে থাকে৷ এক্ষেত্রে কাস্টমার একটি নাম্বারে (বেশীর ভাগ সময়ে নাম্বারটি হয় ফ্রী নাম্বার, যেটিতে ফোন করলে কাস্টমারের কোন বিল আসবে না) ফোন করেন এবং কলটি চলে যায় কোন কল সেন্টারে এবং সেখান থেকেই কাস্টমারকে যাবতীয় সাপোর্ট দেওয়া হয়৷ কলসেন্টারটি হয় সাধারণত একই দেশের এমন কোন স্থানে যেখানে অফিস খরচ কম অথবা অন্য কোন দেশে যেখানে অফিস এবং লেবার কস্ট দুটোই কম৷

উদাহরণসরূপ বলা যায় এখানকার (বৃটেনের) অনেক বড় বড় কোম্পানীর (টেলিফোন জায়ান্ট বিটি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এওএল বা এইচএসবিসি ব্যাংক প্রভৃতি) কল সেন্টার রয়েছে ইন্ডিয়ায়৷ আমরা যখনই এসব কোম্পানীর কাস্টমার সার্ভিস-এ ফোন করি কলটি তখন চলে যায় ইন্ডিয়ায় এবং সেখান থেকেই দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টা আমরা টেলিফোনের মাধ্যমে সেবা পাচ্ছি৷ এভাবে কোম্পানী গুলো কম খরচে ২৪ ঘন্টা তাদের কাস্টমারকে সার্ভিস দিতে পারছে৷ এ ধরণের কল সেন্টারের ব্যবসাটি ইন্ডিয়ায় এখন বেশ জমজমাট৷ পশ্চিমা দেশ গুলো থেকে এভাবেই ইন্ডিয়া তাদের যোগ্যতা বলে আয় করে নিচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা যেটা আমরাও হয়তো করতে পারতাম৷

যাই হোক যেটা পারিনি সেটা নিয়ে আফসোস করার চাইতে সামনে আর কি কি সুযোগ এবং সম্ভাবনা রয়েছে সেটা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণার পাশাপাশি কিভাবে এই সুযোগ গুলোকে দ্রুত কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারে আমি সবার পরামর্শ কামনা করছি এই সাইটের মাধ্যমে৷ সিসিটিভি মনিটরিং যেটার ব্যাপারে বলছিলাম, আমরা কলসেন্টার-এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারিনি সঠিক জনবলের অভাবে কিন্তু সিসিটিভি মনিটরিং ব্যাপারটিতে যেহেতু খুববেশী দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয় না, আমরা কি পারি না এব্যাপারে কিছু একটা করতে?

আমি জানি ব্যাপারটি বলা যতটা সহজ ঠিক বাস্তবায়ন করা ততটা সহজ হবে না৷ কিন্তু আমরা যদি আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের দিকে তাকাই তাহলে কি কিছুটা উৎসাহ পাই না? এ শিল্পের শুরুটা যারা করেছিলেন তারা পথ দেখিয়েছেন অনেককেই৷ খুব বড় ধরণের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা নিয়েই আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে অনেক গার্মেন্টস উদ্যোক্তা৷ আমাদের মাঝে যারা বাইরে আছি তারা তাদের সাধ্যমতো পরামর্শ ও কর্মক্ষেত্রের লিংক্‌-কে কাজে লাগিয়ে সিসিটিভি মনিটরিং-এর সম্ভাবনাটুকুকে আমাদের দেশে নিয়ে যেতে পারলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরো একটি বিশাল সম্ভাবনার পাশাপাশি আমাদের ছোট্ট গরিব দেশটির বেকার সমস্যার সমাধানের পথেও রাখতে পারবে বিশাল একটি ভূমিকা৷

ধন্যবাদ সবাইকে, বিশেষ করে বিজ্ঞানী.com এর সকল উদ্যোক্তাকে৷ আপনাদের এ উদ্যোগ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি৷

এফ. এম. শাহরিয়ার

লন্ডন থেকে

স্প্যামবটের হাত থেকে এই ইমেল ঠিকানা সুরক্ষিত আছে। পড়ার জন্যে জাভাস্ক্রিপ্ট অন করুন।

www.nokshighor.com

মন্তব্যগুলো (0)Add Comment

মন্তব্য লিখুন

security code
Write the displayed characters


busy
সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 24 December 2006 )
 
< পূর্বে   পরে >

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-Noncommercial-No Derivative Works 2.5 License.
Keyword: Bangladesh, Bangla, Bengali, science, technology, nanotechnology, technical, IT, computer, internet, solution, learning, asia, biggan, biggani, scientist, physics, chemistry, content, PHP, program, learn, c language, how, kivhabe, computer tips, amra, sobai, mile, desher, deser, unnoti, korbo, korte, chai, ekushe, ekush, dhaka, khobor, mojar, forum, adda, support, asun, sikhi, siki, sikkha, sikka, projukti, prokashoni, prokash, tothyoprojukti, notun