লগ-ইন

হোম arrow সাইন্স ফিকশন arrow পুনঃপৌনিক আত্মহত্যা
পুনঃপৌনিক আত্মহত্যা | প্রিন্ট |
লিখেছেন মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা   
Monday, 05 February 2007
 

পুনঃপৌনিক আত্মহত্যা

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

আর মাত্র এক ঘন্টা বাকি। ঠিক এক ঘন্টা পরেই আত্মহত্যা করব আমি। এই মুহূর্তে আমি তাকিয়ে আছি আমার ডান পাশে রাখা ত্রিমাত্রিক এলসিডি স্ক্রীনের দিকে। সেখানে ভার্চুয়াল জিপিএস এনভায়রনমেন্ট-এর মাধ্যমে আমার অবস্থান থেকে সূর্যের আপেক্ষিক অবস্থান থ্রিডি এনিমেশনের মাধ্যমে এবং আপেক্ষিক সূর্যাস্ত সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য থ্রিডি গ্রাফিক্সের মাধ্যমে নিখুঁত ভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। হ্যাঁ, আর মাত্র এক ঘন্টা পরেই অস্ত যাবে সূর্য। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই ল্যাবরেটরির এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ চেহারার ওমেগা রোবটটি এগিয়ে আসবে সোজা আমার দিকে। তার মায়াময় চোখদুটোকে ফোকাস করবে ঠিক আমর বুকের উপর। তার দুই কর্ণিয়ার প্রতিটি পিক্সেল থেকে নিক্ষিপ্ত একগুচ্ছ ওমিক্রণ রশ্মি ঝাঁঝরা করে দিবে আমার হৃৎপিন্ড। এক মাইক্রোসেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে মৃত্যু ঘটবে আমার।

আপাতদৃষ্টিতে আমার মৃত্যুকে সাধারণ একটা হত্যাকান্ড বা নিছক দুর্ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটা একটা সুপরিকল্পিত আত্মহত্যা। গত তিন মাস ধরে অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে এই আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছি আমি। সর্বোচ্চ সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার করে সপ্তমাত্রার বিশ্লেষণী ক্ষমতাসম্পন্ন ওমেগা রোবটটির প্রোগ্রামিং করেছি, যেন পৃথিবীর কেউ এই আত্মহত্যা ঠেকাতে না পারে। মৃত্যুর জন্য সূর্যাস্তের সময়টাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে আমার। যে মুহূর্তে প্রকৃতিকে বিদায় জানিয়ে অস্ত যাবে সূর্য, ঠিক সে মুহূর্তেই পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে মারা যাব আমি। পার্থক্য হবে শুধু একটাই। সূর্যের কোন পরিবর্তন ঘটবে না, এই একই সূর্য আগামীকাল ভোরে আবার উদিত হবে। কিন্তু আগামীকাল ভোরে যেই আমি পুনরায় জীবন লাভ করব, সেই আমি আর এই আমি এক হব না। সেই আমি হব এই আমির স্মৃতিধারী এক হিউম্যানোবোট। তার শরীরটা রোবটের হলেও মস্তিষ্ক হবে সম্পূর্ণই আমার। বলা যায় ভিন্ন এক ধরনের অমরত্ব লাভ করব আমি।

আমি একজন বিজ্ঞানী - রোবটিক প্রোগ্রামিং-এ স্পেশালিস্ট। বেশির ভাগ সময়ই ল্যাবরেটরিতে গবেষণাকর্ম নিয়ে পড়ে থাকি। অবসর পেলে ইন্টারনেট থেকে প্রাচীন সাহিত্যিকদের লেখা সায়েন্স ফিকশনগুলো পড়ে সময় কাটাই। সেদিন বিকালে এরকম একটা সায়েন্স ফিকশন পড়তে গিয়েই অমরত্বের এই যুগান্তকারী আইডিয়াটা পেয়ে গিয়েছিলাম আমি। সায়েন্স ফিকশনের কাহিণীটা ছিল বেশ ইন্টারেস্টিং - এক বিজ্ঞানীর মেয়ে কার অ্যাক্সিডেন্ট করে কোমায় চলে যাওয়ার পর কিভাবে তার ব্রেইন রিপ্লেস করে সেখানে একটা রোবটের কন্ট্রোলিং ইউনিট বসিয়ে দিয়ে তাকে পুনরায় জীবিত করা হয়েছিল, সেটা নিয়েই গল্পটা। বইটা আশি বছরের পুরানো। লেখক যা লিখেছেন, তার সবটুকুই কল্পনাপ্রসূত। কারণ রোবটের কন্ট্রোলিং দিয়ে মানুষের ব্রেইন রিপ্লেস করার ধারণা সেই যুগে তো বটেই, এই যুগেও অবাস্তব। কিন্তু এই অবাস্তব ধারণাই আমাকে সম্পূর্ণ বাস্তব এক নতুন ধারণার সন্ধান দিল।

মানুষের ব্রেইন রিপ্লেস করে সেখানে রোবটের কন্ট্রোলিং ইউনিট বসানো অসম্ভব হলেও মানুষের ব্রেইন স্ক্যান করে তার একটা ভার্চুয়াল কপি তৈরি করে সেটাকে একটা রোবটের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কম্পাটিবল করে দেওয়াটা মোটেই অসম্ভব হবে না। সপ্তমাত্রার বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী যে ওমেগা রোবটটি আমার আছে, তার সাহায্যে আমি নিজেই করতে পারব। সময় হয়তো একটু বেশি লাগবে - এই যা। তবে সময় কম লাগুক আর বেশি লাগুক, কাজটা করতে হবে অত্যন্ত গোপনে - কাকপক্ষীও যেন টের না পায়, এমন ভাবে। ব্যাপারটা জানাজানি হলে সারা পৃথিবী জুড়ে কি রকম আলোড়ন সৃষ্টি হবে, সেটা এই মুহূর্তে কল্পনাও করা সম্ভব নয়।

দেরি না করে কাজ শুরু করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই আমি। প্রথমেই পুরো পরিকল্পনাটা ভালোভাবে যাচাই করে দেখতে হবে - থিওরীতে কোন ভুল আছে কি না। নাঃ থিওরী ঠিকই আছে। আমার ভাগ্য ভালো, এতদিনে রোবটিক্স বিদ্যার চরম উন্নতি ঘটেছে। বায়োবোটিক এঞ্জিনিয়ারদের কল্যাণে রোবট এখন বাহ্যিক দৈহিক গঠন, আকার-আকৃতি, হাঁটা-চলা, কথা-বার্তা - সব দিক থেকেই হুবহু মানুষের মতো। এ জাতীয় রোবটকে এখন আর রোবট বলা হয় না, এদেরকে বলা হয় হিউম্যানোবোট। হিউম্যানোবোট তৈরি করার প্রক্রিয়াটাও বেশ সহজ হয়ে গেছে। চতুর্মাত্রিক ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে কোন ব্যক্তির ভাইটাল ডিটেইলস সংগ্রহ করে সেটা সপ্তমাত্রার বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্পন্ন কোন রোবটকে দেওয়া হলে মাত্র আট ঘন্টার মধ্যেই রোবটটি হুবহু সেই ব্যক্তির মতো একটা হিউম্যানোবোট তৈরি করে দিতে পারে, যার সাথে একমাত্র দেহের অভ্যন্তরীণ গঠন আর আচার-আচরণ ছাড়া মূল ব্যক্তিটির আর কোন পার্থক্য থাকে না। এখন যদি সেই ব্যক্তিটির ব্রেইন স্ক্যান করে তার কপি হিউম্যানোবোটটির অপারেটিং সিস্টেমে ইনস্টল করে দেওয়া হয়, তাহলে হিউম্যানোবোটটির সাথে মূল ব্যক্তিটির আর সামান্যতম পার্থক্যও থাকবে না। দুই জনের ব্রেইনের কপি যেহেতু একই হবে, কাজেই দুই জনই একই রকম কথা বলবে, একই ভাবে চিন্তা করবে এবং একই রকম কাজ করবে - এক কথায় এক জন হবে অন্যজনের দ্বৈতসত্ত্বা মাত্র। এ অবস্থায় মূল ব্যক্তিটি যদি কোন ভাবে মারাও যায়, তবুও তার দ্বৈতসত্ত্বাটি বেঁচে থাকবে এবং মূল ব্যক্তিটি বেঁচে থাকলে যা যা করতো, তাই করে যেতে থাকবে। অর্থাৎ, মূল ব্যক্তিটি এক ধরণের অমরত্ব লাভ করবে।

এই থিওরীকে এখন শুধু বাস্তবে রূপ দিতে হবে। আর সেটা করতে হবে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে এবং সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে। গোপনীয়তা রক্ষা করতে হলে এই প্রজেক্টে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির সাহায্য নেয়া যাবে না। কাজ করতে হবে আমাকে একা। অবশ্য আমাকে সাহায্য করবে সপ্তমাত্রার বিশ্লেষণী ক্ষমতা সম্পন্ন আমার সেক্রটারী রোবট - ওমেগা। কিন্তু অন্য কোন মানুষের সাহায্য না নিলে কার ব্রেইন স্ক্যান করব? হ্যাঁ, আমার নিজের ব্রেইনই নিজেকে স্ক্যান করতে হবে - সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম আমি। উত্তেজনায় আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হল। কারণ আমিই হতে যাচ্ছি পৃথিবীর প্রথম অমর মানব!

মূল পরিকল্পনাটা বেশ কয়েকবার ভালোভাবে যাচাই করে অবশেষে অ্যালগরিদম এবং ফ্লো-চার্ট তৈরির কাজে হাত দিলাম আমি। ছয় ধাপ বিশিষ্ট অ্যালগরিদমের প্রথমেই আমাকে নিজের ব্রেইন স্ক্যান করতে হবে। এরপর তার তিনটা কপি করে একটা কপি সেভ করতে হবে সেন্ট্রাল কম্পিউটারে, একটা সেট করতে হবে ওমেগার মেমরিতে আর বাকিটা রাখতে হবে ব্যাকআপ হিসাবে গ্রীণ বুক কালেকশনে। তারপর চতুর্মাত্রিক ডিজিটাল ক্যামেরার সাহায্যে আমার ভাইটাল ডিটেইলস সংগ্রহ করে সেটাকেও একই ভাবে তিন কপি করে তিন জায়গায় সেট করতে হবে। এরপরের কাজটা হবে সবচেয়ে জটিল আর সময়সাপেক্ষ। আমার যে দ্বৈতসত্ত্বাটি তৈরি হবে, তার জন্য এমন একটা অপারেটিং সিস্টেম আবিষ্কার করতে হবে, যেটা আমার স্ক্যান করা ব্রেইনের কপির সাথে কম্টাটিবল হবে। সবশেষে ওমেগাকে এমন ভাবে প্রোগ্রামিং করতে হবে যেন যে কোন সময়, যে কোন ভাবে, যে কোন জায়গায় আমার মৃত্যু হওয়া মাত্রই সে খবর পেয়ে যায় এবং সাথে সাথে তার মেমরিতে রাখা ভাইটাল ডিটেইলস অনুযায়ী আমার একটা দ্বৈতসত্ত্বা তৈরি করে তার অপারেটিং সিস্টেমে আমার ব্রেইনের কপি ইনস্টল করে দেয়।

এই অ্যালগরিদম অনুযায়ী প্রজেক্টটা বাস্তবায়িত করতে পারলেই আমার অমর হওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে। অবশ্য প্রজেক্টটা শেষ হলেও আমার অমরত্বের দাবি কেউ বিশ্বাস করবে বলে মনে হয় না। অন্ততঃ একবার মরে প্রমাণ করতে হবে যে, আমি অমর। কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে থাকলে এই সময়ের মধ্যে যদি অন্য কেউ অমরত্বের নতুন কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলে? না, এটা কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না। তাহলে? উপায় একটাই - আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে - সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আমি। হিউম্যানোবোটের মাধ্যমে পুনর্জন্ম যেহেতু লাভ করবই, তাহলে আত্মহত্যা করতে আর অসুবিধা কোথায়?

ছয় ধাপ বিশিষ্ট অ্যালগরিদম সংশোধন করে সেটাকে সাত ধাপ বিশিষ্ট অ্যালগরিদমে পরিণত করলাম আমি। সর্বশেষ ধাপে ওমেগাকে এমন ভাবে প্রোগ্রামিং করতে হবে, যেন ষষ্ঠ ধাপ যেদিন শেষ হবে, সেদিন সূর্যাস্তের সময়ই সে আমাকে হত্যা করে।

অ্যলগরিদম এবং ফ্লো-চার্ট তৈরি করা শেষ করে আসল কাজ শুরু করলাম আমি। প্রথমেই আমার ব্রেইন স্ক্যান করলাম। এরপর ধাপে ধাপে শেষ করলাম বাকি ছয়টি ধাপ। কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ঠিক তিন মাস পর আজ বিকালে পুরো প্রজেক্টটা শেষ হল। প্রোগ্রাম অনুযায়ী আজ সূর্যাস্তের সময়ই আমার বিশ্বস্ত ওমেগা রোবটটি হত্যা করবে আমাকে। আর আগামী কাল ভোরে সূর্যোদয়ের সময় দ্বৈতসত্ত্বার মাধ্যমে পুনর্জন্মঘটবে আমার।

একজন মানুষ যখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন তার অনুভূতি কি রকম হয়?  আমি জানি না - আর কোন দিন জানতেও পারব না। কারণ এখন আমি যে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি, সেটা তো আসলে মৃত্যু নয়! সেটা তো এক ধরনের রূপান্তর প্রক্রিয়া! আমার মোটেই খারাপ লাগছে না। ফেলে আসা জীবনের জন্য কোন দুঃখ হচ্ছে না। বরং নতুন এক জীবনের কথা ভেবে রোমাঞ্চ অনুভব হচ্ছে। অধীর আগ্রহে আমি সূর্যাস্তের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু সময় যেন আর কাটতেই চাইছে না। সময় কাটানোর জন্য আমি আমার ব্যক্তিগত কম্পিউটারটা চালু করলাম - যে সায়েন্স ফিকশনটা পড়ে আমি অমরত্বের আইডিয়াটা পেয়েছিলাম, সেই সায়েন্স ফিকশনটা পড়ে সময় কাটানো যেতে পারে।কিন্তু কোথায় সেই ফাইলটা? আমি তো  সেটা ডাউনলোড করে মাই ডকুমেন্টস ফোল্ডারে রেখেছিলাম - তাহলে এখন পাচ্ছি না কেন? এরকম তো হওয়ার কথা নয়!

হঠাৎ আমার মনে পড়ল - আরে, আমার কম্পিউটারটা তো আমি ডীপ ফ্রিজ সফটওয়্যারটা দিয়ে ফ্রোজেন করে রেখেছি, যেন প্রতিবার রিস্টার্ট করামাত্রই এর মেমরি রিফ্রেশ হয়ে যায়। তাহলে ফাইলটা পাব কি করে? সাথে সাথে আমার হাত-পা অবশ হয়ে এল। কী ভয়ঙ্কর ভুলটাই না আমি করেছি! অমরত্বের নেশায় এতটাই আচ্ছন্ন ছিলাম যে, এই মারাত্নক ভুলটাও চোখে পড়ে নি। এর থেকে মুক্তি পাওয়ারও তো কোন উপায় নেই! নিজের তৈরি প্রোগ্রামে আমি নিজেই ভয়াবহ এক লুপে আটকা পড়ে গেছি।

অ্যালগরিদম ডিজাইন করার সময়ই ভুলটা করেছিলাম আমি। অ্যালগরিদমের এক নম্বর ধাপ অনুযায়ী প্রথমেই আমি নিজের ব্রেইনটা স্ক্যান করে নিয়েছিলাম। কাজেই আমার ব্রেইনের যে কপিটা এখন ওমেগার মেমরিতে সেভ করা আছে, সেটাতে শুধুমাত্র অ্যালগরিদম এবং ফ্লো-চার্ট তৈরি করা পর্যন্ত ইনফরমেশন আছে।কিন্তু এরপর গত তিন মাস ধরে আমি যত কাজ করেছি বা যত কিছু ভেবেছি, তার কোন ইনফরমেশনই সেখানে নেই। এরফলে আমার মৃত্যুর পর যে দ্বিতীয় আমি সৃষ্টি হব, সেই আমি ঐ অ্যালগরিদম এবং ফ্লো-চার্ট অনুযায়ী পরবর্তী কাজগুলো করে যেতে থাকব। ঠিক এখনকার মতো আবার ওমেগাকে প্রোগ্রামিং করব, নিজের আত্মহত্যার পরিকল্পনা করব এবং ঠিক তিন মাস পর এরকম কোন এক বিকালে মৃত্যুর ঠিক এক ঘন্টা আগে কম্পিউটারে ঐ সায়েন্স ফিকশনটা পড়তে গিয়ে ভুলটা বুঝতে পারব। কিন্তু এখনকার মতোই তখন আর কিছুই করার থাকবে না। কারণ অন্য কেউ যেন আমার অমরত্ব লাভের প্রক্রিয়ায় কোন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমি পুরো প্রোগ্রামটা এত জটিল প্রক্রিয়ায় এনকোডিং করেছি যে, এখন সেটা পরিবর্তন করা আমার নিজের পক্ষেও সম্ভব নয়। এখন যেমন আমি আর কোন উপায় না দেখে শেষবারের মতো ইন্টারনেটে ব্লগ লিখে যাচ্ছি যেন অন্ততঃ পৃথিবীর মানুষ আমার ভুলের কথা জানতে পারে, ঠিক এমন করেই দ্বিতীয় আমিও মৃত্যুর আগে ব্লগ লিখে যাব। তারপর আবার এখনকার মতো সূর্যস্তের সাথে সাথে ওমেগার হাতে মারা যাব। এই মৃত্যুও কোন স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না - এটাও হবে এক ধরনের আত্মহত্যা। নির্ধারিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী ওমেগা আবার আমার তৃতীয় সত্ত্বাকে সৃষ্টি করবে। সেই আমিও একইভাবে আবার আত্মহত্যা করব। অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে আমার এই পুনঃপৌনিক আত্মহত্যা।

শেষবারের মতো স্ক্রীনের দিকে তাকালাম আমি। আর মাত্র এক মিনিট বাকি। হে পৃথিবীবাসী, যদি পার, এই ভয়াবহ লুপ থেকে আমায় মুক্তি দাও। আর যদি না পার, অন্ততঃ আমায় ক্ষমা কর ...

Mozammel Hosain Toha

Sirte - Libya

Mobile No : +218 092 7058964

স্প্যামবটের হাত থেকে এই ইমেল ঠিকানা সুরক্ষিত আছে। পড়ার জন্যে জাভাস্ক্রিপ্ট অন করুন। ; http://tohamh.googlepages.com/
মন্তব্যগুলো (10)Add Comment
...
লিখেছেন sohanee, March 06, 2007
excellent
...
লিখেছেন sohanee, March 06, 2007
excellent
...
লিখেছেন সবুজ চৌধুরী, June 17, 2007
ভাইয়া, আপনার গল্পটা দারুন হয়েছে। এরকম আরও নতুন নতুন গল্প আশা করছি।
PDF
লিখেছেন muztaba, June 17, 2007
vai PDF format e dile ro bhalo hoito na? PDF format e chay boigula.
ধন্যবাদ ...
লিখেছেন মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা, July 07, 2007
ধন্যবাদ সবাইকে। শীঘ্রই আমার সবগুলো গল্পের সংকলন পিডিএফ ফরম্যাটে আপলোড করব। আমার আরো গল্প বা অন্যান্য প্রবন্ধ পড়তে হলে ভিজিট করুন -
http://www.somewhereinblog.net/blog/toha_mhblog
...
লিখেছেন Zafar, October 07, 2007
Nice Story.
Keep going...

zafar
from Sydney
good
লিখেছেন Shouro Chowdhury, April 09, 2008
keep it up
HORROR
লিখেছেন Md. Fazley Rabbi Tanvir, July 09, 2008
LOMHORSOK KAHINI!!!!!!!!!! NEESSHAS BONDHO KORE PORECHI.
...
লিখেছেন gilman, August 17, 2008
very nice story
fatafati
লিখেছেন deedee, October 31, 2008
Bhooter golpota khub shundor hoyechee! ;)

মন্তব্য লিখুন
You must be logged in to a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy
 
< পূর্বে   পরে >

Creative Commons License
This work is licensed under a Creative Commons Attribution-Noncommercial-No Derivative Works 2.5 License.
Keyword: Bangladesh, Bangla, Bengali, science, technology, nanotechnology, technical, IT, computer, internet, solution, learning, asia, biggan, biggani, scientist, physics, chemistry, content, PHP, program, learn, c language, how, kivhabe, computer tips, amra, sobai, mile, desher, deser, unnoti, korbo, korte, chai, ekushe, ekush, dhaka, khobor, mojar, forum, adda, support, asun, sikhi, siki, sikkha, sikka, projukti, prokashoni, prokash, tothyoprojukti, notun