|
সবকিছুর পিছনে যেমন গল্প থাকে তেমনি এই বিজ্ঞানী.comএর পিছনও একটি গল্প রয়েছে, রয়েছে কিছু স্বপ্নের কথা। প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটার কারণেই হয়তো নিজের দেশের প্রতি ভালবাসার তীব্রতা বেড়ে যায়। বাংলাদেশের ভিতরে থাকতে যেভাবে দেশকে চিনা যায়, প্রবাসে এসে সত্যিকারের বাংলাদেশকে জানাযায়। অনেক আগে ড. মুহাম্মাদ ইউনুস, আমাদের নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এই মহান মানুষটি বলেছিলেন, "অনেক সময় বাহির থেকেই বরং দেশকে চেনা সম্ভাব।"
প্রবাসে এসে অনেক বাংলাদেশী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবীদ, ও পেশাজীবির সাথে পরিচয় হবার সুযোগ এল। তখন আবিষ্কার করলাম ইনাদের রয়েছে চমৎকার জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, যেগুলি বাংলাদেশে থাকা বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবীদ ও পেশাজীবিদের হবার সুযোগ হয়না। অনেকেই বলছিল "কিভাবে তারা বাংলাদেশে তাদের অভিজ্ঞতা পৌছে দিতে পারে?" আমি তখন চিন্তা করে দেখলাম বাংলাদেশে এই সমস্ত মানুষদের জ্ঞানকে পৌছাতে হবে। এরা অনেকেরই বাংলায় লিখার অভ্যাস নেই। তখন চিন্তা করলাম কিভাবে এদের জ্ঞানকে পৌছাতে পারা যায়? তখন আমার মাথায় এল সাক্ষাতকার প্রোজেক্ট এর কথা। ভাবলাম ইনার হয়তো লিখতে না পারে, কিন্তু একটা জিনিস ইনারা সবাই পারে তা হল ইনারা সুন্দর করে বাংলায় তাদের অভিজ্ঞতাকে বলতে পারে। টুকটাক কিছু কাজ শুরু করলাম। বাসায় একটি স্টুডিও বানিয়ে নিলাম। পেশাগত কারণে অনেক সময়ই ভ্রমণ করতে হয়। কোথায় ভ্রমনে যেয়ে পেশাজীবিদের একটি সাক্ষাতকার নিয়ে নিতাম। এই ভাবেই শুরু হল বিজ্ঞানীর পদক্ষেপ।
পাশাপাশি আমি নিজেও পত্র-পত্রিকাতে লিখতাম, কখনও লিখেছি তথ্যপ্রযুক্তির উপর কখনও আমার নিজের গবেষনা নানোপ্রযুক্তি নিয়ে, সেগুলিকেও বিজ্ঞানী.com এ সংযোগ করা শুরু করলাম। প্রথমে "আমি" দিয়ে শুরু হয়েছিল। তারপরে অনেকে যোগ দিতে চাইল এই প্লাটফর্মে। সেখান থেকেই এই "আমি" রূপান্তরিত হল "আমারা" তে।এখন বিজ্ঞানী.com এ অনেকেই আছে।
এটি রুপান্তরিত হল বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবীদ ও পেশাজীবিদের মিলনকেন্দ্র। বাংলা ভাষাতে আমাদের অনেক সাইট রয়েছে কিন্তু তার বেশীরভাগ অংশই হল Entertainment ধরনের। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতাগুলি শেয়ার করার তেমন জায়গা নেই। ধীরে ধীরে বিজ্ঞানী.com তেমনই একটি প্লাটফর্মে রুপান্তর হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানী.com শুধু মাত্র বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্র নয় বিভিন্ন পেশাজীবি ও স্পেশালিস্টের মিলনকেন্দ্র।
বিজনেস নাকি ননপ্রোফিট? একটি সংগঠন শুরু করার প্র্রথমেই যেটি নিয়ে ভাবতে হয় তা হল এটির নীতি নিয়ে। সিদ্ধান্ত নিতে হয় এটি কি কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নাকি ননপ্রোফিট সংগঠন? যদিও আমাদের মিলনকেন্দ্রটি ভার্চুয়াল কিন্তু সত্যিকারের বলতে গেলে এটি একটি অন্যান্য সাধারণ সংগঠনের মতই, যেখানে সদস্যরা একটি লক্ষ্যে এগিয়ে চলে। তাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতই আমাদের মূল নীতি গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বিজ্ঞানী.com একটি নন প্রোফিট প্রতিষ্ঠান হিসাবেই গড়ে উঠবে।
তবে প্রযুক্তির সাথে বাণিজ্যের অত:প্রত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এই ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের social business enterprise network এর তত্বটিকে প্রয়োগ করতে চাই। বিজ্ঞানী.com এর সদস্যদের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসবে বাণিজ্যিক সুযোগ। সেই সুযোগকে ঠিক মত কাজে লাগিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সময়ই বলবে আমরা তেমন কিছু করতে পারব কিনা।
যখন এই কথাগুলি লিখছি তখন বিজ্ঞানী.com নতুন ভাবে সাজছে। সামনে অনেক মানুষের সমন্বয়ে অন্যরূপে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রয়োজনে আমরা আরো ভাল কোন আইডিয়াকে ধারণ করে সেই লক্ষ্যে যেতে পারি। সময়ই বলবে বিজ্ঞানী.com কেমন প্লাটফর্মে রূপান্তরিত হবে।
১৬ই ডিসেম্বর ২০০৬
|