|
সময় কথা বলে। ফিসফাস অস্ফুট- ইদানিং যা অবস্থা প্রস্বাব করলেও ভেসে যেতে পারে ঢাকা বা কোলকাতা। বন্যা বছর বছর। জলের ওঠানামার সাথে প্রবাসীদের আমরাই ত্রাতা মুডের সাপ মই খেলা। জল নেমে গেলে-হুজুগ শেষ। আসছে বছর আবার হবে। কেও জানলো না। এবছর বন্যার পেছনে ভূমিকা এশিয়ান ডার্ক ক্লাউডের। দুই কিলোমিটারের পুরু চাদর-বিস্তার কয়েক হাজার বর্গ মাইল-চুয়ান্ন হাজার ফুট উচুতে। ভারত-বাংলাদেশের মাথার ওপরে। ধূলিকনা এর মূল উপাদান-ইংরেজিতে বলে এরোসল। শুষে নিচ্ছে ৩০% সৌরবিকিরণ। তাতে অবশ্য তাপমাত্রা কমছে না। গ্রীণ হাউজ এফেক্টের জন্য জলীয় বাস্প বেড়েই চলেছে। আর এই ডার্ক ক্লাউড শুষে নিচ্ছে সেই বাস্প-ফলে যেখানে এর ঘনত্ব বেশী সেখানে নেমেছে শ্রাবণধারা অঝোরে।
এবার যে বন্যা হল, তা আসছে বছর আবার হবে টাইপের নয়। মনসুন খুব স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা গেল বৃষ্টি হয়েছে নিয়মের অতিরিক্ত। সান দিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রঃ রমানাথন প্রায় পাচ বছর গবেষনা করেছেন এর উৎপত্তি প্রমান করতে। তার কাজ থেকেই জানা যাচ্ছে এধরনের বন্যা এবার প্রায় প্রতি বছর হবে। আরো ভয়াবহ তত্ব হলো হিমালয়ের বরফ গলছে-গত দশ বছরে হিমবাহগুলিতে বরফ কমেছে ৩০%। ফলে সেদিন নিকটে যখন আমাদের নদীগুলি গ্রীষ্মের বরফ গলা জলে আর পুষ্ট হবে না। ফলে গ্রীষ্মে জলের স্তর নেমে আসবে সাংঘাতিক নিচে। জলের স্তর নীচে নামলে-ফল ভয়াবহ।পানীয় জলে থাকবে আর্সেনিক-বোরোচাষে আর জলই পাওয়া যাবে না।
ডার্ক ক্লাউডের উতপত্তির মূল কারন আমাদের জনঘনত্বের কারনে ক্রমাগত উদ্ভিজ দ্রব্য জ্বালানো এবং তার থেকে উদ্ভুত সুক্ষ ধূলিকনা। এই বিশাল মেঘের কারনে গ্লোবাল ওয়ার্মিং আরো ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের ৩০% এলাকা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২-৪ ফুট উচু। এই ভাবে গ্লোবাল ওয়ার্নিং ত্বরান্বিত হলে ২০২৫ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের এই বদ্বীপস্থ অঞ্চল সমূহ সমুদ্র গর্ভে অন্তরীন হবে। মানে আরো চার-পাচ কোটি বাংলাদেশী উদ্বাস্তু হবে। পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনা এবং মেদিনীপুরের তমলুক অংশটিও হারিয়ে যাবে। উড়িষ্যার উপকুলস্থ চারটি জেলা ইতিহাসে স্থান পাবে।
আমরা সবাই এখন রাজনীতি নিয়ে খুব ব্যাস্ত। ভারতের বাঙালী কমরেডরা এখন ঘটা করে কলকাতায় আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করতে ভিয়েতনাম উৎসব করছেন-আর ভিয়েতনাম স্বয়ং আমেরিকান পুজির সাধনা করছে! বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে হাজতে পোরা নিয়ে গনতন্ত্র বনাম সামরিকতন্ত্র সরগম। এই মুখপোড়া বাংলায় কেও নেই যে বলবে ওরে আর দুই দশক বাদে দেশটাই মরতে বসেছে। পরিবেশ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন আন্দোলন নেই-শুধু বন্যা হলে বন্যার্তদের সাহায্য দিন!
প্রসঙ্গত জেনবৌদ্ধদের এক গল্প বলি। বৌদ্ধ মন্দিরের এক দাসী হেমন্তের বিকেলে মন্দিরের প্রবেশপথ পরিষ্কার করছিল। এক ভিক্ষু লক্ষ্য করলেন সে সব সময় প্রবেশ পথে হেমন্তের ঝরে পড়া পাতা পরিষ্কার করেই চলেছে। ভিক্ষু প্রশ্ন করলেনঃ
-আচ্ছা তুমি কখনো মন্দিরে বুদ্ধের দর্শন করেছ?
-না-আমি খুব ব্যাস্ত। দেখছেন না সারাদিন ধরে পাতা পড়ছে।
গল্পটির তাৎপর্য্য এই-মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে এত ব্যাস্ত বৃহত্তর সত্য থেকে যায় সামনে অথচ অলক্ষ্যে। তারপর একদিন শীতে সবপাতা ঝড়ে পরে- মৃত্যু নেমে আসে-বৃহত্তর সত্য থাকে অধরা।
বাঙালীদের অবস্থাও সেই রকম। পাতা পড়তেই থাকে। মানে রাজ়নীতির নিয়ম মেনেই গণ্ডগোল হতেই থাকে। তারাও সেই ঝরা পাতা কুড়াতেই থাকে। তারপর একদিন পৌষে ঝরে পরবে সব পাতা-যেদিন সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যাবে দেশের দক্ষিনাঞ্চল। সেদিন আর পাতা কুড়ানোর জন্যে কেও থাকবে না!
|
তবে সরকারের এমন উদাসীন হওয়া অবশ্যই উচিত না। তাদের অবশ্যই একটি ডিপার্টমেন্ট আছে যেখানে অবশ্যই যোগ্য লোক আছেন। তাদের বিভিন্ন মতামতকে মিডিয়াতে হাই-লাইট করা উচিত। তথ্য সমৃদ্ধ উপস্থাপনা করা উচিত।
এবং সর্বোপরী যারা জানেন এসব বিষয়ে, অবশ্যই অন্যদের জানাবেন।